বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » সরকারি » হরতাল-অবরোধে অচলাবস্থায় মিরপুর চিড়িয়াখানা

হরতাল-অবরোধে অচলাবস্থায় মিরপুর চিড়িয়াখানা

Dhaka Zoo Pixশামীম হোসেন : সারাদেশে ২০দলীয় জোটের অনির্দিষ্ট কালের অবরোধ এবং হরতালে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত দেশের জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা গেছে চলমান হরতাল ও অবরোধের কারণে দর্শনার্থীদের আগমণ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীশূন্য হয়ে পড়বে। আর দর্শনার্থীরা জানান, স্বজনদের ঝুঁকি নিয়ে এখানে আসলেও সবসময় একধরনের শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়।

আবদুস সামাদ, পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। রাজধানীর তালতলা থেকে সন্তান ও আত্মীয়দের নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তিনি বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি যশোর। আমি একজন কাপড় ব্যবসায়ী। হরতাল-অবরোধের জন্য বেচাকেনা নেই বললেই চলে। আগে দিনে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেচাকেনা হতো। কিন্তু এখন এক হাজারও হয় না। গত এক মাসে আমি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণী হয়েছি। তাই দোকান বন্ধ করে গ্রামের বাড়ি থেকে আসা আত্মীয়দের সঙ্গে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসলাম। নিরপদে বাসায় ফিরতে পারবো কিনা আল্লাই ভালো জানেন। রাজনীতিবিদরা সমস্যা করে আর মরি আমরা সাধারণ মানুষ।

গাজীপুরের কলেজ গেট এলাকা থেকে আসা তহমিনা নামের একজন দর্শনার্থী বলেন, আমি মঙ্গলবার ঢাকায় এসে আত্মীয়ের বাসায় উঠেছি। হরতালের মধ্যেও বাচ্চাদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছি। দুই নেত্রী যদি আলাপ আলোচনা করে সমাধান করতেন তাহলে সবার জন্যই ভালো হতো।

মিরপুর আবাসিক এলাকা থেকে আসা জলি বলেন, গত শুক্রবার আমার ননদ কুষ্টিয়া থেকে আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছে। সিএনজিতে করে এখানে এসেছি। ভয়ে আমার ননদ তার ছোট ছেলেকে বাসায় রেখে এসেছে।

এদিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, হরতাল অবরোধের কারণে দর্শনার্থী অনেক কমে গেছে। এসম্পর্কে চিড়িয়াখানার কিউরেটর এনায়েত হোসেন বলেন, চিড়িয়াখানার দর্শনার্থী আগের চেয়ে বহুগুণে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজারের ওপরে দর্শনার্থী আসতো। এমনকি শুক্রবার ও শনিবার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার দর্শনার্থী আসতো। কিন্তু এখন সে সংখ্যা এক থেকে দেড় হাজারে এসে ঠেকেছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের ২০ জন আনসার চিড়িয়াখানার ভেতরে পাহারা দিচ্ছে। এছাড়া চিড়িয়াখানার আশপাশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের নিয়মিত টহল অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, শীত মৌসুমে সাধারণত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পিকনিক বা শিক্ষা সফরে আসতো। কিন্তু হরতাল-অবরোধের কারণে গত একমাসে কোনো হাতে গোনা দু’য়েকটি পিকনিক ইউনিট এসেছে। আবার অনেকে বুকিং দিয়েও ক্যান্সেল করেছে। এখন শুধু ঢাকার আশপাশের মানুষ এখানে আসছেন।

আর চিড়িয়াখানা ও বোটানিকাল গার্ডেনের পার্কিং ইনচার্জ এম কামাল উদ্দীন বলেন, চিড়িয়াখানার বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে এখন দর্শনার্থী আসছে না। আগে প্রতি শুক্রবার ৫ থেকে ৭টি ইউনিট পিকনিকে আসতো। কিন্তু এখন একটিও আসছে না। এ কারণে চিড়িয়াখানা লসের মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতেও সমস্যা হচ্ছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print