সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » জুবায়ের হত্যা মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি

জুবায়ের হত্যা মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি

জুবায়ের হত্যাহরতালে আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারায় জুবায়ের হত্যা মামলার রায় পেছানো হয়েছে। বুধবার ঢাকার ৪নং দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

দীর্ঘ তিন বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করার কথা ছিল।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের এই দিন ধার্য করেন বিচারক। ওইদিন আদালতে হাজির হওয়া ছয় আসামির জামিন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এছাড়া সাত আসামি পলাতক রয়েছে।

গত ২২ জানুয়ারি আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

এ মামলায় ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে জুবায়েরের ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকালীন প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম বদিয়ার রহমান, প্রভিসি প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন ও পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক বর্তমান পিপলস ইউনির্ভাসিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরজু মিঞা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কবিরুল বাসার ও সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম।

গত ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন বিচারক। এর আগে ছয়বার তারিখ দিয়েও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে পারেনি ট্রাইব্যুনাল। এরপর বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ওই বছরেরই ১২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বর্তমান ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মীর শাহীন শাহ পারভেজ। সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তাকে আদালতে হাজির করতে কমপক্ষে ছয়বার সমন দিতে হয়েছে আদালতকে।

গত বছরের ২৮ মে পর্যন্ত টানা ৭টি ধার্য তারিখে কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল মোট ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মীর শাহীন শাহ পারভেজ।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- ১) খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক (কাঠগড়া থেকে পলাতক ২৩/২/১৩), মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু (পলাতক), খান মো. রইছ ওরফে সোহান, (কাঠগড়া থেকে পলাতক ২৩/২/১৩), জাহিদ হাসান (পলাতক), ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ (কাঠগড়া থেকে পলাতক ২৩/২/১৩), মাহবুব আকরাম (কাঠগড়া থেকে পলাতক ২৩/২/১৩), নাজমুস সাকিব তপু (জেলহাজতে), মাজহারুল ইসলাম (জেলহাজতে), ৯) কামরুজ্জামান সোহাগ (জেলহাজতে), মো. নাজমুল হুসেইন প্লাবন (জেলহাজতে), শফিউল আলম সেতু (জেলহাজতে), অভিনন্দন কুণ্ডু অভি (জেলহাজতে), মো. মাহমুদুল হাসান মাসুদ (জেলহাজতে)।

২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রের বিরুদ্ধে এই মামলায় চার্জ গঠন করা হয়।

অভিযুক্তরা হলেন- খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু, খান মো. রইছ, জাহিদ হাসান, ইসতিয়াক মেহবুব অরূপ, মাহবুব আকরাম, নাজমুস সাকিব তপু, মাজহারুল ইসলাম, কামরুজ্জামান সোহাগ, মো. নাজমুল হুসেইন প্লাবন, শফিউল আলম সেতু, অভিনন্দন কুণ্ডু অভি ও মো. মাহমুদুল হাসান মাসুদ।

আসামিদের মধ্যে মাহবুব আকরাম ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি ও নাজমুস সাকিব ওরফে তপু ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি বিকেলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের ‍দিন ভোরে জুবায়ের মারা যান।

এ ঘটনায় পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, রাশেদুল ইসলাম ও খান মো. রইস।

গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামির কাঠগড়া থেকে চার আসামি খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মো. রইছ, ইসতিয়াক মেহবুব অরূপ ও মাহবুব আকরাম পালিয়ে যান। একইদিনে আরো দুই আসামি- মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু ও জাহেদুল ইসলামের জামিন বাতিল করা হয়। কিন্তু তারাও আর আদালতে হাজির হননি। পলাতকদের ছাড়াই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যায়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print