সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » জিতেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

জিতেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের গোলেবঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে ‘বি গ্রুপের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ড্র করলেই সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে যেত বাংলাদেশ। কিন্তু নিষ্প্রাণ ড্র পছন্দ নয় এমিলি-মামুনুল-হেমন্তদের! যে কারণে জিতেই সেমির খেলা নিশ্চিত করলেন তারা। সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের গোলে লঙ্কানদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫। ইনজুরি টাইম। সবটুকু সময় বিশ্লেষণ করলে ম্যাচে ছিল বাংলাদেশের একতরফা আধিপত্য। বলের ৮৫ভাগ দখল ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণ, গোলে শটের দিক দিয়েও এগিয়ে ছিল স্বাগতিক দল। আক্রমণের পর আক্রমণ শানিয়ে শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

পুরো ম্যাচে শ্রীলঙ্কা আক্রমণ করেছে হাতে গোনা কয়েকটি। অন্যদিকে বাংলাদেশের আক্রমণ ছিল মুহুর্মুহূ। একের পর এক গোলের সুযোগ সৃষ্টি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ৩৯ মিনিটে হেমন্ত ভিনসেন্ট যে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নিয়েছেন, সেই গোলে ভর করে বাংলাদেশ পৌঁছে গেলে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে। আর শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে বিদায় নিয়েছে।

ম্যাচের শুরু শেষ পর্যন্ত অসংখ্য ছোট-বড় আক্রশণ শানিয়েছে বাংলাদেশ। তৈরি করেছে অনেকগুলো সুযোগ। ঠিকমতো সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারত বাংলাদেশ। সেটা সম্ভব হয়নি। তবে যে জয়টি প্রয়োজন ছিল সেটা তারা আদায় করে নিয়েছে। কথা রেখেছেন মামুনুল-এমিলিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কা আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশের আক্রমণের সামনে তারা খেই হারায়। পুরো ম্যাচ জুড়েই শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়া। ম্যাচের ৫ মিনিটে শ্রীলঙ্কা আক্রমণ শানায়। কিন্তু জটলার মধ্যে বল জড়াতে পারেনি জালে। এরপর রায়হান হাসানের দারুণ থ্রু থেকে জটলার মধ্যে বল পান জাহিদ হোসেন। কিন্তু তিনি বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।

১১ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে জড়ানে পারেননি জাহিদ হোসেন। তার দুর্বল শট রুখে দেন শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষক সুজান পেরেরা। ২২ মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ পেয়েও সেটি মিস করেন এমিলি। ৩১ মিনিটে রায়হান হাসানের থ্রু থেকে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন এমিলি । বল শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা বারের পাশ দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরপর কর্নার থেকেও সুযোগ তৈরি হয়।

কিন্তু সেটাও কাজে লাগাতে পারেননি মামুনুল-এমিলিরা। অবশেষে ৩৯ মিনিটে এমিলির বাড়িয়ে দেওয়া বলে জোড়ালো শটে জালে জড়ান হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। আর ১৫ হাজার দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়ে। এরপর আরো কয়েকটি দারুণ আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। কিন্তু আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় বাংলাদেশ দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে বাংলাদেশ দল। একের পর এক আক্রমণ গিয়ে আছরে পড়ে শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগে। কখনো গোলরক্ষক সেভ করেন। কখনো বারের পাশ দিয়ে চলে যায়। কখনো বাইরে থেকে জালে লাগে। এভাবেই চলতে থাকে আক্রমণ। ৫১ মিনিটে হেমন্ত ভিনসেন্টের দারুণ একটা শট রুখে দেন শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষক। ৬০ মিনিটে জামাল ভূঁইয়া ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণ শানান। তার বাড়ানো বল ডি বক্সের মধ্যে দাঁড়ানো বাংলাদেশের তিনজন খেলোয়াড়ের কেউ ধরতে পারেনি। ফলে গোলও হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরেই সোহেল রানার বাড়ানো বল থেকে গোল মিস করেন এমিলি। তার শট সাইড বারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায় বল।

৬৭ মিনিটে গোলরক্ষক শহিদুল আলম ফাউল করলে পেনাল্টি পায় শ্রীলঙ্কা। অবশ্য পেনাল্টি শটটি রুখেও দেন গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যেমন গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। তেমনি শ্রীলঙ্কাও পারেনি ব্যবধান কমাতে। এ জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আর ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমির টিকিট আগেই নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়া দল।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print