সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » এটা কোন ধরনের আন্দোলন?

এটা কোন ধরনের আন্দোলন?

শেখ হাসিনাবিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বিষধর সাপের মতো বাংলাদেশকে দংশন করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘একদিন পত্রিকায় বেরোলো পাকিস্তান থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে। এর পরপরই আমি দেখি কোনো কিছু নাই, কোনো কথা নাই হঠাৎ আমাদের একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের দোসর বিশ দল বিষধর সাপের মতো বাংলাদেশকে দংশন করছে। সেই বিশ দল যেন এখন বাংলাদেশের জন্য একটা বিষ পোঁড়া হয়ে গেছে।’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গ্রীনরোডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ‘পানি ভবন’র ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং ভবন’ এবং ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস ভবন’রও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা (২০ দল) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। বাসে মানুষ যাতায়াত করে সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ। ২ বছরের ছোট্ট শিশু সেও রেহাই পায় না। এটা কোন ধরনের আন্দোলন?’

২০ দল আন্দোলনের নামে দরিদ্র মানুষের পেটে লাথি মারছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্নবিত্ত, দিনমজুর লোকজনের জীবনযাত্রা আজ স্থবির হওয়ার পথে। তাদের পেটে লাথি মারছে বিএনপি-জামায়াত। কেন তারা এটা করছে? এই গরীব মানুষরা কি মানুষ না?’

‘বিএনপি কাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে?’ এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ তাদের জন্যই তো আমাদের রাজনীতি। তাদেরকেই যদি পুড়িয়ে মারা হয় তবে কার জন্য রাজনীতি? কিসের রাজনীতি?’

এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেও বিএনপির হরতাল-অবরোধের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে এসএসসি পরীক্ষা। সবাই আশা করেছিল এই পরীক্ষার সময় বিএনপি-জামায়াত মানুষ পুড়িয়ে মারা বন্ধ করবে। অথচ তারা অবরোধের সঙ্গে আবার ৭২ ঘণ্টা হরতাল দিয়েছে। পরীক্ষা এলেই তারা হরতাল অবরোধ দেয়।’

সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সকল সহিংস কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ যেন ব্যহত করতে না পারে সে জন্য আবারো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অশুভ শক্তির সকল বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতকে বলবো, এই খেলা তাদের বন্ধ করতে হবে। আজকে আমরা যখন রাষ্ট্রপরিচালনা করে মানুষকে নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে নিয়ে আসছি। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। ২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। সেখানে বিষাক্ত ছোবল মেরে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায় বিএনপি-জামায়াত।’

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি আপনারা দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আরো তৎপর হবেন। আগামীতে বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড আরো গতিশীল ভূমিকা রাখবে।’

নদী রক্ষায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদী আমাদের প্রাণ। একটা মানুষের শরীরে যেমন শিরা উপশিরা দিয়ে রক্ত প্রবাহ করে। তেমনি বাংলাদেশের নদী হচ্ছে দেশকে বাঁচিয়ে রাখার শিরা-উপশিরা। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে, বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যহত রাখতে নদীগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে।’ নদী রক্ষা করতে নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের পর নিয়মিত মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, সচিব জাফর আহমেদ।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print