রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » সিলেটে ছাত্রলীগের গুলিতে ২ জন নিহত

সিলেটে ছাত্রলীগের গুলিতে ২ জন নিহত

-400x1সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাজারে সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাক শ্রমিকদের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জামাল হোসেন গ্রুপের সংর্ঘষের সূত্রপাত হয়।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতে জামাল গ্রুপের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। তাদের গুলিতে বিজু আহমদ (১৮) নামের এক মাংস বিক্রেতা এবং পরিবহন শ্রমিক আবুল কালাম (৪০) নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো ৬ পরিবহন শ্রমিক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের সভাপতি শামীম আহমদ মারা যান। শামীম মারা যাওয়ার পর থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জামাল হোসেন ওই স্ট্যান্ড দখল করার পায়তারা শুরু করেন। কিন্তু সিএনজি শ্রমিকরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। একপর্যায়ে এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে বিয়ানীবাজার ট্রাক শ্রমিক ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক নেতারা তাদের কার্যালয়ে একটি বৈঠক করছিলেন। বৈঠকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এরপর জামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে যান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে জামাল হোসেনের নেতাকর্মীরা শ্রমিক নেতাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। তখন শ্রমিকনেতারা পিছু হটে। পরে জামাল গ্রুপের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে সেখানে অবস্থান নেয়।

তবে জামাল গ্রুপের নেতাকর্মীদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন- মাংস বিক্রেতা বিজু আহমদ, উপজেলা ট্রাক শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুয়াইবুল রহমান (৪০), শ্রমিক নেতা বিমল চন্দ্র (৩২), রিপন (২৯), তারেক (২৪), নূরুল হক (৫০). ফয়ছাল আহমদ (২৬) ও আবুল কালাম (৪০)।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর গুলিবিদ্ধ বিজু আহমদকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। আর বাকিদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। হাসপাতালে নেয়ার পর পরিবহন শ্রমিক আবুল কালমকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

নিহত বিজু সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের পাশে বসে মাংস বিক্রি করতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে রিজু আহমদ ও কালামের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ জামাল আহমদকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার নিদের্শ দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।

রাত ১২টা ১৩ মিনিটের সময় বিয়ানীবাজার থানার ওসি জুবায়ের আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভাই এখন কথা বলতে পারবো না। আমি একটি অপারেশনে আছি।’ এরপর তিনি মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print