বৃহস্পতিবার , ১৯ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » সরকারি » ধর্মের নাম কর্তাভজা!

ধর্মের নাম কর্তাভজা!

ধর্মের নাম কর্তাভজা এবং এই ধর্মের অনুসারীদের বলা হয় ভগবানিয়া। বাংলাদেশের এই ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে।

কর্তাভজা ধর্ম ছয়টি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যেমন- (১) মিথ্যা থেকে বিরত থাকা, (২) অন্যের স্ত্রীর অপহরণ না করা, (৩) চুরি না করা, (৪) মাদকাসক্ত না হওয়া, (৫) অন্যের খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্য না খাওয়া  এবং (৬) অন্যের ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার না করা।

Picture-3-1422415334

এই ছয়টি মূলনীতির পাশাপাশি ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা লোকায়ত স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিশেষ নিয়মে আবদ্ধ। সে কারণে আধুনিক জীবনযাপন ও চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। তারপরও ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা শত প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও ধর্মের নিয়মনীতি পালন করে যাচ্ছে।

কর্তাভজা ধর্ম কী : সাম্প্রতিক কালের ধর্ম হিসেবে পরিগণিত হওয়ায় বহুলোকের কাছে কর্তাভজা ধর্মের বিষয়টি অজানা। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ঘোষপাড়া নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামে এই ধর্মের প্রথম আবির্ভাব। আউলচাঁদ ফকির এই ধর্মের প্রথম প্রবর্তক। রামসারণ পাল এই ধর্মের প্রথম গুরুদেব এবং তার স্ত্রী সতিমা প্রথম গুরুমাতা। বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম অনুসারী শিবরাম মোহন্ত।
মূলত ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা একসময় ইসলাম ও হিন্দুধর্মের অনুসারী ছিল। কিছু সামাজিক রীতিনীতি ও লোকায়ত চিকিৎসা পদ্ধতির অনুসরণের কারণে ইসলাম ও হিন্দুধর্মের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া শুরু করে। একসময় সম্পূর্ণভাবে বিচ্যুত হয়ে নতুন ধর্মের পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসলাম ও হিন্দুধর্মের কিছু প্রভাব লক্ষ করা যায় যেমন নামের ক্ষেত্রে শ্রী করিম মোড়ল, সন্তোষ খাঁ, শ্রীমতী রাহেলা বানু প্রভৃতি। এই ধর্মমত অনুসারে ৬৪টি গ্রামে (ধাম) ৬৪ জন গুরুদেব রয়েছে। গুরুদেব ধরা হয় মূল মালিক বা ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে। ধর্মমত অনুসারে গুরুদেবদের খুশি করতে পারলে ঈশ্বর খুশি হন। তাদের আরাধনার স্থান ‘কাছারী গৃহ’।

 

download

ভগবানিয়াদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয় চৈত্র মাসের শেষ দিনে। এই অনুষ্ঠান তিন দিন ধরে চলে। এ ছাড়া প্রতি মাসে একবার তারা কাছারী গৃহে সম্মিলিত প্রার্থনায় মিলিত হন। ভগবানিয়া পুনর্জন্মে  বিশ্বাসী। ধর্মমতে কোনো মানুষ ভালো কাজ না করে মৃত্যুবরণ করলে তাকে আবার পুনর্জন্ম নিতে হয়।
ছয়টি মূলনীতির পাশাপাশি লোকায়ত স্বাস্থ্য পরিচর্যা তাদের ধর্মের একটি অংশ। তাদের শাস্ত্রমতে কর্মফলই রোগব্যাধির মূল কারণ। ধর্মীয় অনুশাসন থেকে বিচ্যুতি ঘটলেই মানুষ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হলে রোগীকে গলায় গামছা দিয়ে গুরুদেবের সামনে পাপ স্বীকার না করলে রোগী সুস্থ হয় না বলে তাদের বিশ্বাস। মানুষ মৃত্যুবরণ করলে মাটিচাপা দিয়ে সমাহিত করা হয়।
ভগবানিয়াদের বসবাস : বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ভগবানিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করেন। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার লাউতাড়া, কাশিয়া ডাঙ্গা, চরগ্রাম ও বারইপাড়া গ্রামে ৫০০ এর বেশি ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। এ ছাড়া সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশুডাঙ্গা, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বেতগ্রাম, ঘোষড়া ও যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার জগলান্দ কাটি গ্রামে ভগবানিয়াদের বসবাস রয়েছে।
তালা উপজেলার চর গ্রামে প্রায় ৪০টি ভগবানিয়া পরিবারের বসবাস এবং তাদের মহল্লাটি একটি ধাম হিসেবে পরিগণিত। এই গ্রামের প্রথম অনুসারী ছিলেন আশা মাহমুদ।
কথিত আছে, আশা মাহমুদ একসময় কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। কালিপ্রসন্ন কপত নামের এক হিন্দু ভদ্রলোকের পরামর্শে তিনি যশোরের জগলান্দকাটি গ্রামের শিবরাম মোহন্তের শরণাপন্ন হন। সেখানে একধরনের বিশেষ ঝালের তরকারি খেয়ে আশা মাহমুদ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান এবং ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে নিজ গ্রামে চলে আসেন।
বিয়ে ও যৌনজীবন সম্পর্কিত কিছু নিয়মনীতি : ভগবানিয়া পুরুষদের বিয়ে হয় কনের বাড়িতে। কনেকে লাল শাড়ি আর বরকে সাদা ধুতি পরতে হয়। গুরুদেবের উপস্থিতিতে বর কনেকে মাথায় সিঁদুর পরিয়ে দেয় এবং গুরুদেবের কিছু উপদেশের মাধ্যমে বিবাহকার্য সম্পন্ন হয়। এরপর বর কনেকে সম্পত্তি হিসেবে এক টাকা দিয়ে থাকে। কোনো পুরুষ কোনো বিধবাকে বিয়ে করতে পারে না আর করলে তাকে সমাজচ্যুত হতে হয়।
ভগবানিয়াদের যৌনজীবন খুবই সুশৃঙ্খল। সন্তান নেওয়ার উদ্দেশ্যে এমনকি সাধারণভাবেও অমাবস্যার ১৫ দিন স্বামী-স্ত্রীর যৌনমিলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তা ছাড়া, শুক্রবার, শনিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার যৌন মিলন গ্রহণযোগ্য নয় বলে ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা মনে করে। ভরাপেটে দিনের বেলা, সংকীর্ণ জায়গায় অথবা স্বল্প আলোয় (ডিম লাইটে) যৌনমিলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। মহিলাদের গর্ভবতী হওয়ার প্রথম তিন মাস ও সন্তান প্রসবের পরবর্তী তিন মাস যৌনমিলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কিত কিছু নিয়মনীতি : মাংস খাওয়া তাদের ধর্মমত অনুসারে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সে কারণে মাংস খাওয়া তো দূরের কথা, প্রাণীর শরীরের উপাদান থেকে তৈরি জিনিসপত্র যেমন-চামড়ার জুতা, বেল্ট ও ব্যাগ পর্যন্ত তারা ব্যবহার করেন না। তাদের ধারণা, চামড়ার জিনিস ব্যবহার করলে তারা রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
টিউবওয়েলের সিটবল চামড়া দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে দীর্ঘকাল তারা টিউবওয়েলের পানি খেতেন না। পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিকের সিটবল তৈরি হওয়ার পর টিউবওয়েলের পানি খাওয়া শুরু করেন।
এই ধর্মমত অনুসারে মাংস ছাড়াও শোল মাছ, বোয়াল মাছ, গজার মাছ ও মসুরির ডাল খাওয়া নিষিদ্ধ। একসময় তারা পেঁয়াজ, রসুন খেত না। কিন্তু বর্তমানে গুরুদেবদের সম্মতিক্রমে পেঁয়াজ, রসুন খেয়ে থাকে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দিন তারা নিরামিষ খাবার খেয়ে থাকে এবং এই সময় তাদের খাবার হচ্ছে রুটি ও ফল। তারা কখনো জুতা পায়ে রান্নাঘরে প্রবেশ ও খাবার পরিবেশন করে না। গুরুদেবদের না খাওয়ায়ে তারা কোনো ঋতুভিত্তিক ফল খায় না। বিধবাদের আমিষযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ মারা গেলে পরিবারের লোকেরা তিন দিন মাছ খায় না।
ভগবানিয়ারা অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের বাড়িতে কোনো খাবার খায় না অসুস্থ হওয়ার ভয়ে। তাদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের জন্য পৃথক থালা, বাটি, গ্লাস ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র থাকে। যদি কোনো অনুষ্ঠানে ৫০০ লোক উপস্থিত থাকে তাহলে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য।
মারা যাওয়ার পর : ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের কেউ মারা গেলে শুধু স্বজনরাই মৃত ব্যক্তিকে পরিচ্ছন্নভাবে ধৌত করাতে পারে। সুন্দরভাবে মৃত ব্যক্তিকে ধৌত করার পর মাটিচাপা দেওয়া হয়। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে কোনো নারীর অংশগ্রহণ থাকে না।
ধর্ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের প্রথম দিন চুল ছাঁটানো, শেভ হওয়া, মাথায় তেল ব্যবহার ও আমিষ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চতুর্থ দিনে চুল ছেঁটে বা শেভ হয়ে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হতে হয়। ঐ দিন মাটি দিয়ে ঘর এবং গোবর দিয়ে উঠান লেপন করা হয়। পাশাপাশি ঐ দিন ঘরের সমস্ত কাপড়চোপড় ও বিছানাপত্র সাবান বা সোডা দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয় এবং মৃত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো ফেলে দেওয়া হয়।
চতুর্থ দিনে মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী লোকদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় সংগীত গাওয়া হয়। দশম দিনে গুরুদেবের উদ্যোগে মৃত ব্যক্তির জন্য দশদশার আয়োজন করা হয় এবং ১২তম দিনে মৃত ব্যক্তির পাপমুক্তির জন্য ‘বিসার কাজ’ অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
নিয়মে বাঁধা জীবন : এই ধর্মের অনুসারীদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের নিয়মকানুন মেলে চলতে হয়, যেগুলো আবার স্বাস্থ্য পরিচর্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
পিরিয়ডের সময় মহিলাদের গোয়ালঘরে যাওয়া, ধানের গোলা ও সন্ধ্যা প্রদীপ স্পর্শ, বৃক্ষরোপণ ও রান্না করা নিষিদ্ধ। এমনকি শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো ও স্পর্শ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। যে নারী শিশু জন্মের পর নাভির নাড়ি কেটে ফেলে তাকে অন্য চোখে দেখা হয়, এমনকি তার হাতে রান্না করা খাবার পর্যন্ত কেউ খায় না।
এই সম্প্রদায়ের লোকেরা উত্তর দিক সম্মুখ (রাজপুতা) করে ঘর তৈরি করে, যাতে সহজে আলো বাতাস চলাচল করে। দক্ষিণ দিকে থাকে রান্নাঘর। দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকার জন্য পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে গোয়ালঘর তৈরি করা হয়। গুরুদেব প্রতিটি ঘর তৈরির কাজ উদ্বোধন করে থাকেন এবং বিশেষ প্রার্থনা করেন।
ইট পাথরের পরিবর্তে মাটির তৈরি বাড়ি তাদের বেশ পছন্দ। জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য বাড়ির চারপাশে রোপণ করা হয় নিমগাছ। বাড়ির সামনে থাকে তুলসীগাছ । সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন গোবর দিয়ে উঠান লেপন করা হয়। সন্তান বড় হলে মূল ঘরের পাশে বারান্দা তৈরি করে আলাদাভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। আর্থিকভাবে সেটা সম্ভব না হলে মূল ঘরের ভেতর পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হয়।
চিকিৎসাপদ্ধতি : কর্তাভজা ধর্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো লোকায়ত স্বাস্থ্য পরিচর্যার পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ। রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে প্রকৃতির বিভিন্ন গাছ-গাছড়া ও উপাদান এবং নিয়মনীতির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
তারা কোনোমতেই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করেন না এবং কোনো ডাক্তারের কাছে যান না। কেউ আধুনিক ওষুধপথ্য গ্রহণ করলে তাকে ‘একঘরে’ করে রাখা হয়। এমনকি পরিবার পরিকল্পনা কাজে নিয়োজিত মাঠকর্মীদের কোনো পরামর্শ গ্রহণ করেন না। তারা তাদের বাচ্চাদের টিকা দেন না ও ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ান না। প্রত্যেক রোগের জন্য রয়েছে লোকায়ত নিজস্ব চিকিৎসাপদ্ধতি।
এর কয়েকটি উদাহরণ এখানে তুলে ধরা হলো :

* শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে লংকাবেড়ির বা গাঁদা ফুলের পাতা পিষে লাগালে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বড় ধরনের কেটে গেলে দুটো চামড়া চেপে ধরে ‘বুচ’ এর পাতা চিবিয়ে কিছুক্ষণ ক্ষতস্থানে চেপে রাখলে কাটা অংশটি জুড়ে যায়। ক্ষত চিহ্নটি বোঝা যায় না।

* সাধারণ পাতলা পায়খানা হলে ভাতের মাড় বা চিড়া ভিজিয়ে লেবুর পাতা চটকিয়ে রোগীকে খাওয়াতে হয়। এ ছাড়া বারবার গুড়ের শরবত খাওয়াতে হয়। এরপরও যদি পায়খানা বন্ধ না হয় এবং ঘন ঘন পায়খানা হয় তবে তুলসীগাছের শিকড় বেটে রস করে খাওয়ালে উপকার হয়।

* অসহ্য পেটের ব্যথায় কিছু সরিষা, আতপ চাল ও লবণ একসঙ্গে চিবিয়ে পানি খেলে ব্যথা সেরে যায়। এ ছাড়া পাথরকুচির পাতা লবণ দিয়ে বেটে পেটের চারপাশে প্রলেপ দিলে পেট ব্যথা ভালো হয়ে যায়।

* বরই গাছের পাতা ও সজনের ফুল বেটে বড়ি তৈরি করে নিয়মিত খেলে গ্যাস্টিক থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। এ ছাড়া বুচ গাছের শিকড় এবং পাতা বেটে আধা তোলা রস আধাতোলা সরিষা তেলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গ্যাস্টিক সেরে যায়।

* ঘন ঘন প্রস্রাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। আখের চিনির সঙ্গে কুমুরকি লতার ডগা ৩-৪টি পরপর কয়েক দিন খালিপেটে খেলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

* আটছটি পাতার রস নিয়মিত খেলে জলবসন্ত ভালো হয়।

* মাথা যন্ত্রণায় তেলাকচুর পাতা বেটে রস করে খেতে হয়। মাথার একপাশে যন্ত্রণা করলে বুড়িপান পাতার রস সূর্য ওঠার পূর্বে মাথায় কয়েক ফোঁটা দিলে নিরাময় হয়।

* স্মরণশক্তি কমে গেলে তা বাড়াতে কুমুরকির লতার ডগা খালি পেটে কয়েক দিন খেলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়
অন্যান্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক : ভগবানিয়াদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন অসংখ্য নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলায় আবদ্ধ থাকার কারণে পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালী মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময় ভালো যায় না। তা ছাড়া, আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ভগবানিয়ারা কোনোভাবেই হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে না। অনেক সময় প্রতিবেশীদের হাঁস-মুরগি ও ছাগল তাদের বাড়িতে প্রবেশ করলে তারা বিরক্ত বোধ করে। যে কারণে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক সব সময় ভালো যায় না।
তবে লোকায়ত চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে অনেক সাধারণ গ্রামবাসী রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে তাদের পরামর্শ নেয়। যে কারণে সাধারণ গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বেশ ভালো। ভগবানিয়াদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশ ভারো। তাদের ছেলে-মেয়েদের অনেকে স্কুল কলেজে পড়াশোনা করে। তবে ধর্মের নিয়মকানুন মেলে চলতে তাদের পক্ষে বেশ কাষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।
ভগবানিয়াদের জীবনযাত্রা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন শেখ মাসুদুর রহমান, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর যুগ্ম পরিচালক। তিনি রাউজিংবিডিকে বলেন, ‘আশার কথা যেখানে দেশজ চিকিৎসা পদ্ধতি হারিয়ে যেতে বসেছে, সেখানে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সেটিকে টিকিয়ে রেখেছে। আমাদের উচিত দেশজ এই চিকিৎসাপদ্ধতি সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া। পাশাপাশি তারা যেন তাদের ধর্মকর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে তার জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বন্ধন আরো জোরালো করা।’

 

 

 

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print