রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান, মন্ত্রীদের ঝাড়লেন এমপি তাহজীব

রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান, মন্ত্রীদের ঝাড়লেন এমপি তাহজীব

tahjib-alamবছরের প্রথম অধিবেশনে দেয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী। একইসঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ‘ব্যর্থতার’ চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রীদের একহাতও নিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দশম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব’ পর্বে তিনি বলেন, ‘বিবেক দ্বারা তাড়িত হয়ে এই ভাষণ প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হলাম।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণে ব্যথিত হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারের শুধু সফলতা অর্জন ও ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনাই প্রতিভাত হয়েছে। এতে সরকারের ব্যর্থতা, বিফলতা বা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ প্রতিফলিত হয়নি। বিবেক দ্বারা তাড়িত হয়ে এই ভাষণ প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হলাম।’

ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরে তরুণ এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আর্থিক খাতে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা স্থবিরতা বড় চ্যালেঞ্জ। জিডিপির ১৯ শতাংশের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে। প্রবৃদ্ধির হারে বাজেটে ধার্য ৭.৩ শতাংশ অর্জন করতে হলে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ অন্তত ২৪ শতাংশ হতে হবে।’

তিনি অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের লুটতরাজকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে কি না, এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার প্রশ্নে উষ্মা প্রকাশ করেন। আমার ভাগ্য তিনি আমাকে গালমন্দ করেননি।’

বাণিজ্যমন্ত্রীরও সমালোচনা করেন তাহজীব। তিনি বলেন, ‘গত ৬ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির যে ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা অর্জিত হওয়া দুঃসাধ্য। দেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬.৮ শতাংশ। এটা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়। তবে এ বিষয়ে মনে হচ্ছে বাণিজমন্ত্রী নিরুদ্বেগ।’

তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে ‘অযাচিত বাহাস না করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কৌশল নির্ধারণ’ করার পরামর্শ দেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে পূর্বে কথা বলে মন্ত্রীকে খুব চটিয়েছি। কিন্তু একটা প্রতিজ্ঞা করতে চাই, এরপরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে আমি মন্ত্রীর ইস্তফা চাইবো। আমার বিশ্বাস আমি সফলও হবো।’

রাজনৈতিক সার্কেলে কৃষিমন্ত্রণালয়ের সফলতা সমার্থক শব্দ হিসেবে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন তাহজীব। তিনি বলেন, ‘সারে, কীটনাশকে ভেজাল, ফসলে পচন এবং ন্যায্যমূল্যের অভাব কৃষকের কাছে শুনি। কাকে বিশ্বাস করবো?’

এছাড়াও তিস্তার পানি চুক্তি, ঢাকা শহরের চলাচলের অনুপোযোগিতা, ভুয়া ডাক্তারের বেড়ে চলা, মাদকের বিস্তার, বিটিভির ক্রমাগত লোকসান নিয়েও সংসদে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার এসব বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রীসহ সিনিয়র বেশ কয়েকজন মন্ত্রী কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তবে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। বক্তব্যের পরে তাহজীব আলমকে ঘিরে সমালোচনা করেন সরকারদলীয় অনেক সংসদ সদস্য।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print