সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » আবারও টানা অবস্থানে যাবে গণজাগরণ মঞ্চ

আবারও টানা অবস্থানে যাবে গণজাগরণ মঞ্চ

ইমরান এইচ সরকারযুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ তার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রাজনীতির নামে সন্ত্রাস-সহিংসতা বন্ধের দাবিতে আবারও শাহবাগে টানা অবস্থান করবে।

মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী গণ–অবস্থান ও সমাবেশ’ থেকে এ ঘোষণা দেন। ‘সম্মিলিত প্রতিবাদ, রুখতে পারে সন্ত্রাস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে এ সমাবেশ হয়। এ সময় ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে দেশব্যাপী ‘মুক্তির অভিযাত্রা’ নামে একটি কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে প্রতিবাদী গণস্বাক্ষর ও সমাবেশ হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ইমরান এইচ সরকার বলেন, দেশে এখন ভয়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হচ্ছে। যারা এই সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যার রাজনীতি করছে, তাদের কোনোভাবেই মানুষ বলা সমীচীন নয়। যারা রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে দেশকে একটি ভবিষ্যৎ​হীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সব দেশপ্রেমিক ও বিবেকবান মানুষকে রাজপথে নামতে হবে।

সমাবেশে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল যে দুটো আকাঙ্ক্ষা—বৈষম্যহীন অর্থনীতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ কাঠামো, কোনোটিই পূরণ হয়নি। এই মুহূর্তে সরকারের করণীয় হিসেবে তিনি জামায়াতকে নিষিদ্ধ, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘মৌলবাদের অর্থনীতির’ ভিত্তি, সেগুলো জাতীয়করণ করে এর সম্পদ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বণ্টন ও সব মন্ত্রী-সাংসদ-আমলাকে স্ব-স্ব এলাকায় পাঠিয়ে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার দাবি জানান। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ‘সনদ ব্যবসার প্রতিষ্ঠান’ বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি—সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে বলল যে, তাদের সব সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করছে, তখন থেকেই জামায়াত নিষিদ্ধ। পাকিস্তান যেভাবে বাংলাদেশে কোনো কার্যক্রম চালাতে পারে না, তেমনি জামায়াতও এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না।

আ.লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ততটুকু বিশ্বাস করে, যতটুকু করলে ক্ষমতায় থাকা যায়
সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধরনকে সামান্য হলেও ধারণ করত, তবে বার্ন ইউনিটে এত মানুষের কান্না শুনতে হতো না। বর্তমান রাজনীতিকে ‘ক্ষমতাতন্ত্র’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ততটুকুই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, যতটুকু করলে তার ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়, আবার বিএনপিও ততটুকুই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যতটুকু করলে ক্ষমতায় যাওয়া যায়।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আশরাফউদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক প্রমুখ বক্তব্য দেন। পরে সেখানে প্রতিবাদী গণসংগীত পরিবেশন করে উদীচীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। সমাবেশ চলাকালীন কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print