সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » খালেদার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

খালেদার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

গেলেন প্রধানমন্ত্রীসাক্ষাৎ না পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে ফিরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রমুখ।

শনিবার রাত আটটা ১৯ মিনিটে গণভবন থেকে রওয়ানা দিয়ে আটটা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে পৌছান। সেখানে দুই মিনিট অবস্থানের পর কেউ কার্যালয়ের গেট না খোলায় তিনি তার গাড়িতে চড়ে ফিরে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি।

প্রধানমন্ত্রীর চলে যাওয়ার পর কার্যালয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা খুবই অমানবিক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল রাত আটটায় তিনি আসবেন। সেসময় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কিছুই জানানো হল না। এখন প্রধানমন্ত্রী আসলেন। আর বিএনপি গেট খুললো না। এটা কোনো ভদ্র কাজ হতে পারে না।

তবে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পাঁচ মিনিট আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া শোকে বিহ্বল। চিকিৎসকের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর শোকার্ত খালেদা জিয়া কারো সঙ্গে কথা বলছেন না।

শিমুল বিশ্বাস জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনকে সমবেদনা জানানোর জন্য কার্যালয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীকে বলেছি বেগম খালেদা জিয়া এখন অসুস্থ। তিনি সুস্থ হলে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। তথন যদি প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাহলে সাক্ষাৎ হবে।  প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে আসার ৫ মিনিট আগে এ ঘোষণা দিয়েছিলেন শিমুল বিশ্বাস।

কোকোর মৃত্যুর সংবাদ জানার পরই প্রধানমন্ত্রী রাত আটটায় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য গত ৬ জানুয়ারি থেকে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট যখন লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই বাংলাদেশের দুই নেত্রীর মধ্যে সরাসরি এই দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল।

খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো শনিবার সাড়ে ১২টার দিকে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্ত্রী সৈয়দ শামিলা রহমান সিঁথি, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে নিয়ে কুয়ালালামপুরে একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকছিলেন আরাফাত।

২০০৯ সালের মে মাসে শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুর পর ধানমণ্ডির সুধা সদনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমবেদনা জানান এবং দুই নেত্রীর মধ্যে কিছুক্ষণ কথাও হয়। এরপর বেশ কয়েকবার একই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও তারা কথা বলেননি।

২০১৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর শোক জানাতে বঙ্গভবনে দুই নেত্রী গিয়েছিলেন। অবশ্য সে সময় কথা হয়নি তাদের মধ্যে।এছাড়া বিগত কয়েকবছরে একাধিকবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাকুঞ্জে গেলেও কথা বলেননি তারা।

জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন আরাফাত।সেখান থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। অন্যদিকে মুদ্রা পাচার মামলায় বাংলাদেশের আদালতে ২০১১ সালে তার ৬ বছর কারাদণ্ড হয়; তবে বিএনপির দাবি, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print