বৃহস্পতিবার , ১৯ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » শিক্ষাঙ্গণ » রাজনৈতিক সংকটে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি !

রাজনৈতিক সংকটে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি !

Electric20fবিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য কমেছে অর্ধেক। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে লিটার প্রতি পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমিয়েছে দেড় থেকে আড়াই টাকা করে। অথচ বাংলাদেশে তেলের মূল্য কমানো হচ্ছে না। উল্টো বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের মূল্য। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে আর্ন্তজাতিক বাজারের তেলের দরের সঙ্গে দেশীয় মূল্য সমন্বয় করা হলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি হলে চলমান রাজনৈতিক সংকটে তা নতুন মাত্রা হিসেবে যোগ দিতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ১ দশমিক ৩৭ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি)। দেশের চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুরের শহরাঞ্চলে বিপিডিবি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৬ দশমিক ১০ টাকায়। নতুন মূল্য নির্ধারণ হলে মূল্য হবে ৭ দশমিক ৪৭ টাকা।  এ ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধির হার হবে ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবনার আলোকে আবাসিক খাতে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের মূল্য ৩ দশমিক ৫৩ টাকার স্থলে কিনতে হবে ৪ দশমিক ২০ টাকায়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে নতুন মূল্য প্রস্তাব করা হয়।

এসময় বলা হয় ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ডেসকো, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানি চলবে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বাস্তবায়ন করা হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই।

এখন বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য সবচেয়ে কম। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য আর্ন্তজাতিক বাজারে ৪৯ ডলার। গত জুন মাসে ছিল ১০৭ দশমিক ২৬ ডলার। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এসোসিয়েশন (আইইএ) এর এক পূর্বাভাস মতে, বিশ্ব বাজারে তেলের চাহিদা কমে হবে দৈনিক ২ লাখ ব্যারেল। যা আগে ছিল ৭ লাখ ব্যারেল।

হঠাৎ করেই তেল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে উৎপাদন ও রফতানিকারকদের জোট ওপেক। এ কারণে তেলের মূল্য কমছে বলে মনে করছে অনেকে। তবে জোটটি বলছে, বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ২০ ডলারে নেমে এলেও অতিরিক্ত উৎপদন বন্ধ করা হবে না।

তেলের চাহিদা ও মূল্য কমার কারণ অনুসন্ধান নিয়ে চলছে হরেক রকম বক্তব্য। ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে দেখছে ইরান। তাদের মতে সিরিয়াসহ কয়েকটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দেয়ার জন্যই মূলত তেলের অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়িয়েছে ওপেক।

তেলের চাহিদা ও মূল্য কমার পেছনে আমেরিকার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করছে একদল বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে দেশটির পাহাড়ের খাঁজে আটকে থাকা তেল ‘শেল ওয়েল’ উৎপাদন শুরু করায় তাদের আমদানি কমেছে। ফলে চাহিদার পাশাপাশি দামও কমেছে। অপর এক দল দাবি করছে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেই অর্থনৈতিক কর্মকা- কমে যাওয়ায় তেলের চাহিদা কমে গেছে।

নতুন করে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি না করার পক্ষে মত দিয়েছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে আর্ন্তজাতিক বাজারের তেলের দরের সঙ্গে দেশের তেলের মূল্য সমন্বয় করা হলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না। বিদু্যুতের মূল্য বৃদ্ধি হলে চলমান রাজনৈতিক সংকটে নতুন মাত্রা যোগ দিতে পারে বলেও মনে করছেন তারা। বিরোধী দল এটিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। ফলে সরকারবিরোধী চেতনা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন তারা।

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স। সংগঠনটির সভাপতি হোসেন খালেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এমনিতেই চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভাল নয়। তার ওপর সরকার পিডিবির পক্ষ থেকে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, যেখানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশে এ অবস্থায় বিদ্যুতের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধি করা হলে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।  এছাড়াও আমরা মনে করি, দেশে জ্বালানি তেলের দামও কমে আসা উচিত, যা আমাদের কৃষি ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে বলে অভিমত দেন তিনি।।

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা মো. আবদুর রকিব এডভোকেট ও মহাসচিব মাওলানা মো. আবদুল লতিফ নেজামী। তারা বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমহ্রাসমান থাকা অবস্থায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ফলে শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায়  টিকে থাকার ক্ষমতা হারাবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print