মঙ্গলবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবক খিলগাঁও ছাত্রদলের সেক্রেটারি

বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবক খিলগাঁও ছাত্রদলের সেক্রেটারি

বন্দুকযুদ্ধেখিলগাঁও জোড়াপুকুর এলাকায় সোমবার দিবাগত রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম নুরুজ্জামান জনি (৩০)। তিনি খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ২০১ তিলপাপাড়া, খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন। তার বাবার নাম ইয়াকুব আলী।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ইয়াকুব আলী ‍ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন।

ইয়াকুব আলী বলেন, ‘সোমবার সকালের দিকে তার ছোট ছেলে মনিরুজ্জামান হীরাকে খিলগাঁও থানা পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আদালতের মাধ্যমে হীরাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার বিকেলের দিকে জনি ছাত্রদল কর্মী মঈনকে নিয়ে ছোট ভাই হীরার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারের গেটে যায়। দেখা শেষে সেখান থেকেই জনিকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। আজ সকালে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি জনিকে গুলি করে মারা হয়েছে। এরপর মেডিক্যালের মর্গে ছুটি আসি। জনির লাশ পাওয়া গেলেও মঈনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

ইয়াকুব আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, ‘এই দেশে রাজনীতি সবাই করতে পারে। সে অধিকার সংবিধানেই সংরক্ষিত আছে। গুলি করে মেরে ফেলতে হবে, এ অধিকার কোথায় লেখা আছে। দোষ থাকলে তার বিচার হবে আদালতে। গতকাল বিকেলে ধরা হলো, আর রাতেই তাকে গুলি করা হলো, এটা কোন দেশে বাস করছি। এর সঠিক বিচার চাই। ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব।’

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধে মৎস্য ভবনের সামনে বাসে পেট্রোলবোমা দিয়ে আগুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করতে খিলগাঁও থানাধীন জোড়াপুকুর সংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সোমবার রাতে অভিযানে যায়। সেখানে ওত পেতে থাকা কয়েকজন সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে একজন সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে খিলগাঁও থানার এসআই আলাউদ্দিনের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে মতিঝিল এজিবি কলোনিতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হন। পরে বিকেলের দিকে মর্গে এসে নিহতের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন। জানা যায়, নিহত ওই ব্যক্তি নড়াইল সদর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তার নাম ইমরুল কায়েস। তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অস্ত্র উদ্ধার করতে অভিযানে গেলে কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলে ইমরুল কায়েস মারা যান।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print