মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » ১৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে পালালো এসআই !

১৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে পালালো এসআই !

polish..3রাজধানীতে বিমলচন্দ্র আইচ নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক ও মারধর করে ১৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছেন কোতোয়ালি থানার এসআই নুরুল আমিন খান।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে গেণ্ডারিয়ার ৫৪ নম্বর মনির হোসেন লেনে আবু বকর সিদ্দিকির বাড়ির দ্বিতীয়তলায়। এ ঘটনায় এসআই আমিনকে আসামি করে গেণ্ডারিয়ার থানায় মামলা করেছেন ব্যবসায়ী বিমলচন্দ্র আইচ। এরপর থেকেই পলাতক এসআই নুরুল আমিন। তবে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শামীম খান নামে বিআরটিএর এক দালালকে আটক করেছে।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিমলচন্দ্র আইচ একটি নোহা এক্স মাইক্রোবাস কেনেন। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন করাতে বিআরটিএতে গেলে তার সঙ্গে দেখা হয় পূর্বপরিচিত দালাল মো. শামীম খানের। এ সময় শামীম তাকে স্বল্প সময়ে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে বিমলকে গেণ্ডারিয়ার ৫৪ নম্বর মনির হোসেন লেনের বাসায় আসতে বলেন শামীম। কথামতো গাড়িচালক আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে ওইদিন রাত ১০টার দিকে নতুন গাড়িতে করে শামীম খানের বাসায় যান বিমলচন্দ্র। এ সময় দোতলার ওই ঘরে কোতোয়ালি থানার এসআই নুরুল আমিন খানের সঙ্গে ছিলেন অচেনা আরও ৪-৫ যুবক। কথোপকথনের একপর্যায়ে এসআই আমিন সঙ্গীদের নিয়ে বিমলচন্দ্র ও তার চালককে ভেতরের ঘরে নিয়ে আটকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিমল এতে অপারগতা প্রকাশ করলে ঘরের সবাই তখন মোটা লাঠি দিয়ে তাকে ও আনোয়ারকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। তখন এসআই আমিন নির্দেশ দেন, না মরা পর্যন্ত দুজনকে পেটাতে।
একপর্যায়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে ভীতসন্ত্রস্ত বিমলচন্দ্র এসএ পরিবহনের মাধ্যমে তার গ্রামের বাড়ি থেকে ১৪ লাখ টাকা আনান, যা পরিবহন সংস্থাটির মালিটোলা শাখা থেকে এসআই আমিন ও দালাল শামীমকে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে বিমলচন্দ্র ও তার চালকের সঙ্গে থাকা ২১ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন, এমনকি স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেন। একই সঙ্গে নতুন নোহা গাড়িটির ২০ লাখ টাকা দাম ধরে একটি স্ট্যাম্পে বিমলের স্বাক্ষর নেয় তারা। এছাড়া হত্যার হুমকি দিয়ে নজরুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তিকে পিটিয়ে তার স্ত্রী শেফালী বেগমের মাধ্যমে আরও ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা।
চাঁদা পরিশোধের ৪ দিন পর ৩১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুক্তি পান বিমলচন্দ্র। পরে তিনি পরিচিত গোয়েন্দা পুলিশের এক পরিদর্শককে বিষয়টি জানান। ওই পরিদর্শকের সহায়তায় গেণ্ডারিয়ার থানা পুলিশ পরদিন রাত সাড়ে ৪টার দিকে শামীম খানকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে শামীম মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গেণ্ডারিয়ার থানার এসআই চম্পক চক্রবর্তী গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এসআই নুরুল আমিন খান পলাতক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print