মঙ্গলবার , ১৪ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » বিভেদ ভুলেছে ছাত্রদল

বিভেদ ভুলেছে ছাত্রদল

ছাত্রদলবিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের ভ্যানগার্ড (অগ্রদূত) হিসেবে পরিচিত ছিলো দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ২০০১ নির্বাচন পূর্ববর্তী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ছাত্র সংগঠনটি।

তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাদের সেই ঐতিহ্য ও সক্রিয়তা ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পরে। বিশেষ করে বিএনপি ঘোষিত বেশিরভাগ কর্মসূচিতে এ ছাত্রসংগঠনটির নিষ্ক্রিয়তা ভাবিয়ে তুলেছিল এর নীতিনির্ধারকদের। পর্যবেক্ষকদের মতে আবারও স্বরূপে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটি।

দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিপর্যস্ত সংগঠনটিতে দেখা দিয়েছে ঐক্যের সুবাতাস। দলের পদধারী ও পদবঞ্চিত নেতারাও একসঙ্গে নামছেন সরকারবিরোধী আন্দোলনে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদলের সাম্প্রতিক সময়ে রাজপথের ভূমিকায় তারা আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

নতুন বছরের শুরু থেকে ২০ দলীয় জোট ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে।

বিশেষ করে গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপির গাজীপুরের মহাসমাবেশের পূর্ববর্তী সময়ে ছাত্রদলের সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন শীর্ষ নেতারা। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হাজিরা দিতে গেলে বকশিবাজার এলাকায় গণজমায়েত করে ছাত্রদল। ওই সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রদলের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। ওই সময় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলায় শীর্ষ নেতারা ছাত্রদলের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এর আগে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা দেন যেখানেই ছাত্রলীগকে পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাই দেয়া হবে। এরপর থেকেই মূলত মাঠে নামেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রদলের মধ্য প্রায় দশটি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্য মুখ দেখাদেখি ছিল বন্ধ। খালেদা জিয়া ঘোষিত ছাত্রদলের নতুন কমিটিকেও প্রত্যাখান করে আন্দোলনে নামে কয়েকটি গ্রুপ।

বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস আহম্মেদ মুন্না, বর্তমান কমিটির সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন কয়েকবার। তবে খালেদা জিয়ার সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণার পর সবাই বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হয়েছেন।

৪ জানুয়ারি রাতে ফেরদৌস আহম্মেদ মুন্না তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘দল বাঁচলে গ্রুপিং অনেক করা যাবে। আমরা সবাই এক, ঘরে বসে থাকার সময় নেই, আন্দোলনে নামতে হবে।’

একই সময়ে আনিসুর রহমান খোকন বলেন, ‘রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকতেই পারে। তবে ম্যাডাম অবরুদ্ধ। এ ক্রান্তিকালে রাজপথই চূড়ান্ত কথা।’

জানা যায়, বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এসব নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন কয়েক দফা। সবাইকে আগামী দিনে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে দলের মধ্য ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেন।

এ বিষয়ে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, ছাত্রদলে কোনো গ্রুপিং নেই। সবাই একতাবদ্ধ হয়েই রাজপথে আছে। ছাত্রদলের এমন সাহসী ভূমিকা অব্যাহত থাকলে সরকারের কোনো কৌশলই তাদের পতন ঠেকাতে পারবে না।

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী যে অবরোধ কর্মসূচি চলছে তা বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে ছাত্রদল। রাজধানীতে বিভিন্ন মিছিলে সক্রিয় রয়েছে ছাত্রদল। বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্য প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে প্রায় প্রতিদিনই মিছিল-সমাবেশ ও পিকেটিংয়ের ঘটনা ঘটছে।

এর বাইরে রাজধানীর জগন্নাথ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ  কলেজ ও ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোতেও ছাত্রদলের সক্রিয়তা অনেক ক্ষেত্রেই বেড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার ও মামলার শিকার হয়েছেন।

এছাড়া নাটোরে দুই কর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি কবি নজরুল কলেজের পাঁচ নেতা নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকদিন ধরে।

এর আগে ৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙ্গে প্রবেশ করতে গিয়ে গ্রেফতার হন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শওকত আরা উর্মিসহ ১৫ ছাত্রদল নেত্রী।

গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা জেলাসহ এর আশেপাশের প্রায় ১৫ জেলায় হরতাল পালন করে ছাত্রদল। আওয়ামী লীগের সমাবেশের দিনে ছাত্রদলের হরতালের ঘোষণাকে অনেকেই নব্বইয়ের ছাত্রদলের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তারা বলছেন, ছাত্রদলের মাধ্যমেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ী হওয়া সম্ভব।

এসব বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, আমরা কোন রক্তচক্ষুকে পরোয়া করি না। ছাত্রদল রাজপথে থেকেই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাবে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মনোবল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দৃঢ়। সরকারের মামলা-হামলা ও গুলির মুখেও রাজপথে কর্মীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print