সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » বিদায় ব্রেট লি

বিদায় ব্রেট লি

রেননবছর দুয়েক আগেই বিদায় বলেছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের উপস্থিতিটা অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন তিনি। খেলে চলছিলেন আইপিএল ও অস্ট্রেলীয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর-বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতা। বয়সটা ৩৮ হয়ে যাওয়াতেই কিনা এবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকেও বিদায় বলার ঘোষণা দিলেন ব্রেট লি। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের এই গতি সম্রাট চলতি মৌসুমের ‘বিগ ব্যাশ’ খেলেই অতীত হয়ে যাবেন ক্রিকেটের দুনিয়া থেকে।
বিগ ব্যাশে চলতি মৌসুমে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলছেন লি। আজ বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট মাঠে দাঁড়িয়েই জানিয়ে দিলেন তাঁর বিদায়ের লগ্ন। বলেছেন, কোচ ট্রেভর বেইলিস তাঁকে আরও দুই-তিন মৌসুম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা চালিয়ে যেতে বললেও তাঁর সিদ্ধান্ত একটাই, ‘বিদায় বলার সময় এটিই।’
শেষ মৌসুম বলেই বিগ ব্যাশটা খেলছেন বেশ উপভোগের মন্ত্র নিয়েই, ‘আমি এই মৌসুম শুরুর আগেই এ ব্যাপারে নীতিগত একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। কোচ ট্রেভর বেইলিসকে বলেছিও তা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা আরও দুই-তিন মৌসুম চালিয়ে যাওয়া যায় কি না, সেটা তিনি আমায় ভেবে দেখতে বলেছিলেন। আমিও ভেবেছি। তবে ভেবে দেখেছি, বিদায় বলার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হয় না।’
এবারের বিগ ব্যাশে তাঁর দল সিডনি সিক্সার্সের আর একটি খেলা বাকি রয়েছে। নগর-প্রতিদ্বন্দ্বী সিডনি থান্ডার্সের সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে সেই খেলাটা। থান্ডার্সের সঙ্গেই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিগ ব্যাশের ফাইনালটা খেলতে নামবে সিক্সার্স। এই দুটি ম্যাচের আগে নিজেকে যথেষ্ট আবেগতাড়িতই মনে করছেন লি, ‘প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট-ক্যারিয়ারের শেষ বলটি ছুড়ে আমি নিজেকে খুব গর্বিত ভাবব। ভাবব, ক্রিকেটার হিসেবে এই জীবনে তো কম কিছু পাইনি। আমার ক্রিকেট জীবন ধন্য। বেশ কিছুটা আবেগতাড়িতও হয়ে পড়ব। ক্রিকেট মাঠের সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক তো আর সহজেই ছিন্ন করা যায় না। তবে এটা ঠিক যে আমার তৃপ্তির জায়গাটা থাকছেই। আমি মনে করি ক্রিকেটীয় জীবনকে বিদায় বলার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারত না।’

ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটাতেই মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন ব্রেট লি। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচটি দিয়েই ক্রিকেট-দুনিয়া পেয়েছিল এক অমৃতসুধা। লি নিজেকে গর্বিত মনে করেন প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলোয়াড় হিসেবে থাকতে পেরে। ক্যারিয়ারে ১১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন লি। ৩০.২৭ গড়ে তাঁর উইকেটসংখ্যা ১০৫। তবে একটা আক্ষেপ তাঁর থাকছেই। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুইবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাটা তাঁর অধরাই রয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭৬টি টেস্ট খেলেছেন লি। উইকেটসংখ্যা ৩১০। ২২১টি ওয়ানডেতে তাঁর ঝুলিতে গেছে ৩৮০ উইকেট। ২০০০ সালে অভিষেকের পর থেকেই তিনি তাঁর গতি দিয়ে মন জয় করেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের। ১৫০ কিলোমিটার গতিতে টানা বল করে যাওয়ার সামর্থ্য তাঁকে পরিণত করেছিল একবিংশ শতকের প্রথম দশকের অন্যতম ভয়ংকর বোলারে। তিনিই অন্যতম বোলার, যিনি ১০০ মাইল গতিতে বল করার অনন্য নজির স্থাপন করেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print