রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » সাকিবের প্রতি ভারতীয় চ্যানেলের অপমানজনক আচরণে ক্ষুব্ধ দর্শক !

সাকিবের প্রতি ভারতীয় চ্যানেলের অপমানজনক আচরণে ক্ষুব্ধ দর্শক !

renegeds-e1421221925261সাকিব আল হাসান শুধু দেশেরই  নয় বরং সারা বিশ্বের গর্ব।  যিনি এখন ক্রিকেটের সম্রাট কেননা। এই খেলার তিন ফরম্যাটেই তিনি সেরা অল রাউন্ডার হিসেবে আবারো মনোনীত হয়েছেন। ধারাবাহিক পারফর্মেন্স তাকে প্রতিনিয়ত উন্নতি আর সাফল্যের চূড়ায় সেঁটে রাখছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে সাকিবের বিগ ব্যাশে যাওয়া এর আগে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিল), ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এসএলপিএল) এ ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হওয়া এসব যেন নিত্যদিনের ঘটনা।  গতদিনই তো মাত্র ১৩ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে সাকিব গতকাল ধ্বংস করে দিয়েছেন ব্রিসবেন হিটে’র ব্যাটিং লাইন আপ এবং পাশাপাশি তার দু’টি ক্যাচ ও একটি রান আউট কী তার অনবদ্য পারফর্মেন্সের প্রমাণ নয়? প্রশ্ন ছিল না কোনোও,  আর সে হিসেবেই সাকিব আল হাসান নির্বাচিত হন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ।

কিন্তু তাকে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ পুরস্কার দেয়ার সময় তার ইন্টারভিউ না দেখিয়ে টেলিকাস্ট বন্ধ করে দেয় ভারতের “Star Sports 4” চ্যানেলটি এবং বন্ধ করে দিয়েই ভিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখানো শুরু করে!

সাকিবের প্রতি ভারতীয় মিডিয়ার এই অপমানজনক আচরণ একদমই মেনে নিতে পারেনি সাকিব ভক্তরা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ। বিশেষ করে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই দিচ্ছেন স্ট্যাটাস, ক্ষোভের এই আগুন ছড়িয়ে পরছে পেইজ থেকে পেইজে, গ্রুপ থেকে গ্রুপে। নিজের ভাষায় তারা এসব প্রতিবাদ জানিয়েই চলেছেন আর তাতে মিলছে আকুণ্ঠ সমর্থন। দেশের গর্ব এই খেলোয়াড়ের প্রতি এই অসম্মান মেনে নিতে পারছেন না কেউই। প্রায় সবার এখন একটাই দাবী, বাংলাদেশের নিজস্ব খেলার চ্যানেল প্রতিষ্ঠা।

একজন ফেইসবুক ইউজার সানি আরেফিন লিখেছেন:

আর কতকাল আমাদের পরের অধিনে বাঁচতে হবে??? যেখানে জিম্বাবুয়ে,আফগানিস্তানের মত দেশের নিজস্ব খেলার চ্যানেল আছে, সেখানে নেই সাকিবের মত খেলোয়ারের দেশ বাংলাদেশে নেই কোনো খেলার চ্যানেল..| আমাদেরওতো ইচ্ছা করে সারাদিন দেশের ক্রিকেট খেলা দেখব..| সত্যিই লজ্জা লাগে এটা ভাবতে, আমাদের দেশের নিজস্ব কোনো খেলার চ্যানেল নাই..| কালকে সাকিব ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হলো, অথচ তাঁর পুরস্কার নেয়াটা দেখতে পারলাম না কুত্তার বাচ্চাদের জন্য..| নিজেরা খেলতে পারিস না ভালো কথা তাই বলে যে পারে তাঁর খেলাও দেখতে দিবিনা!!! বাংলাদেশে একটি খেলার চ্যানেল চাই।

আরো একজন জাহিদ হাসান লিখেছেন:

আজকের সাকিবের প্রতি ইন্ডিয়ান মিডিয়ার এই অপমানজনক আচরণ কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। সাকিবের সেরা বোলিং ফিগারের (৪/১৩) সুবাদে আজ মেলবোর্ন রেনেগেডস খুব সহজে জয় পায়। স্বভাবতই জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু তাকে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ পুরস্কার দেয়ার সময় তার ইন্টারভিউ না দেখিয়ে টেলিকাস্ট বন্ধ করে দেয় রেন্ডিয়ার ‘পা চাটা’ আর ‘গে হো’ খ্যাত Star Sports 4 চ্যানেলটি। এবং সাথে সাথে রেন্ডিয়ার star sports স্বীকৃত অলরাঊন্ডার( !) ভিরাট কুলির ব্যাটিং দেখানো শুরু করলো।

আজ সমগ্র সাকিবিয়ান তার ইন্টার্ভিউ মিস করলো। জানি সবাই খুবই অসন্তুষ্ট। কিন্তু কিছুই যেন করার নেই। আজ আমরা ইন্ডিয়ান মিডিয়ার কাছে বন্দী। কারণ আমাদের কোন খেলার চ্যানেল নাই! নইলে আমাদের আজ এই ইন্টারভিউ টা মিস করতে হতো না… আজ সময় এসেছে আন্দোলনে যাওয়ার। সরকারের কাছে আমাদের একান্ত আবেদন বাংলাদেশের একটি নিজস্ব খেলার চ্যানেল চাই !!!

এমন আরো অনেকের বাক-যুদ্ধে মুখর ফেইসবুক। তবে স্পোর্টস চ্যানেলের দাবী প্রসঙ্গে খোলামেলা মন্তব্য করলেন দেশের গণ-মাধ্যমের শীর্ষস্থানীয়রা।

একাত্তর টেলিভিশেনর বার্তা পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা স্পোর্টস টাইমসকে জানান, ‘ অবশ্যই শুধু স্পোর্টস এর চ্যানেল দরকার আছে তবে শুধুমাত্র বিদেশী খেলার দিকে ঝোঁক দিলে সেই চ্যানেল আর দেশী চ্যানেলে তফাৎ কি? সাকিবের পুরস্কার নেয়া না দেখালে আমাদের সাকিব ছোট হয়ে যান না বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, সাকিব সাকিবের জায়গাতেই আছেন আরো সমৃদ্ধ হচ্ছেন।’

এদিকে, এ বিষয়ে সময় টেলিভিশনের বার্তা প্রধান তুষার আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেশীয় স্পোর্টস চ্যানেলের অপরিহার্যতা জরুরী হয়ে পরেছে, মিক্সড চ্যানেলগুলো মৌসুমী স্পোর্টস চ্যানেলে রুপ নিচ্ছে। সংবাদ ভিত্তিক চ্যানেলগুলোর পরই স্পোর্টস চ্যানেলের চাহিদা বলেও মনে করেন তিনি।

এক সময়ের বিবিসি’র সাংবাদিক বর্তমানে এবিসি রেডিও এর অনুষ্ঠান প্রধান ইকরাম কবীর বলেন, ‘যারা নতুন চ্যানেল নিয়ে আসছেন তাদেরই উচিত একটা স্পোর্টস চ্যানেল দেয়া; স্পোর্টস চ্যানেলের চাহিদা আছে। এটা বাংলাদেশে খেলা-ধুলা এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। এটা এখন সময়ের দাবী…’

এদিকে, দৈনিক কালের কন্ঠের ক্রীড়া বিভাগীয় প্রধান মোস্তফা মামুন স্পোর্টস টাইমসকে বলেন, ‘স্পোর্টস চ্যানেলের দাবী অবশ্যই যৌক্তিক তবে আমি খুব একটা আশাবাদি নন। কেননা আমাদের দেশের বিনিয়গকারী ও নীতি-নির্ধারকরা এবিষয়ে উদাসীন। তারা স্পোর্টসকে নিছক বিনোদন হিসেবেই দেখেন, তারা এই অগণতি মানুষের আবেগের কথা ভাবেন না। এসমসয় তিনি আরো বলেন, স্পোর্টস চ্যানেল লাভজনক হবে না এটা ভাবা বোকামী, অবশ্যই স্পোর্টস এমন একটি বিষয় যেখানে বয়সের বাঁধা নেই।

দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া উপস্থাপনায় থাকা কাজী সাবির স্পোর্টস টাইমসকে বলেন, বিদেশী চ্যানেলগুলোর কাছে কিছু আশা করাই ঠিক না, কেননা এগুলো আসলে দেশ ভিত্তিক চ্যানেল। যেমন ইএসপিএন, স্টার ভারতীয় আর টেনি স্পোর্টস পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার খেলা বেশী দেখায়।  বিশ্বের সেরা অলা রাউন্ডারের খবর না দেখানো তাদের জন্য বড় ব্যার্থতা আমাদের এখানে হারানোর কিছু নেই, বলেও মনে করেন তিনি।

 

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print