বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » রিয়াজের গাড়ি চালক লাপাত্তা, পুলিশের মামলা

রিয়াজের গাড়ি চালক লাপাত্তা, পুলিশের মামলা

রিয়াজ রহমানবিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে গুলি করে তাকে বহনকারী গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় মামলা করেছে ‍পুলিশ। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। যদিও ঘটনার পরই থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‌্যাবের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। আর রিয়াজ রহমানের পরিবার ও সহকর্মীরাও হামলাকারীদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, হামলার ঘটনাটি ‘রহস্যঘেরা’। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী রিয়াজ রহমানের গাড়িচালকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। হামলার সময় তিন-চারটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি নোয়া মাইক্রোবাসও ঘটনাস্থলে ছিল। এরা একসঙ্গে পালিয়ে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, ১০-১২ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে রিয়াজ রহমানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে থেকেই তার গাড়ি অনুসরণ করছিল।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) লুৎফুল কবির বলেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি। বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। এখনো হামলাকারী শনাক্ত হয়নি।’ বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় আট-দশ জন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তকে আসামি করে মামলা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রিয়াজ রহমানের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি পুলিশ হেফাজতে আছে। বুধবার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। সিআইডির দলটির প্রধান সিআইডির পরিদর্শক আরিফ ইফতেখার বলেন, ‘দোষীদের চিহ্নিত করতে আমরা ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করেছি। এ ঘটনার তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে রিয়াজ রহমানের সঙ্গেও কথা বলবে সিআইডি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। রিয়াজ রহমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা মামলা করতে আসেনি। তাই আমরা বাদী হয়ে মামলা করেছি। ঘটনার তদন্ত থেমে নেই। ঘটনার রাতেই গুলির এক রাউন্ড খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ গুলির খোসাটিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনা বিশ্লেষণ করে মনে হয়েছে- গুলিবিদ্ধ রিয়াজ রহমানের গাড়িচালক অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী। তবে এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা) চালককে পাওয়া যায়নি। চালককে হাজির করার জন্য রিয়াজ রহমানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।’

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আশপাশের ভবনগুলোর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তথ্য পাওয়া গেছে, হামলার আগের বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকেই চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল রিয়াজ রহমানের গাড়ি অনুসরণ করে। হামলার সময় ঘটনাস্থলের কাছে একটি নোয়া মাইক্রোবাস ছিল। হামলার পর মোটরসাইকেলের সঙ্গে মাইক্রোবাসটিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ধারনা করা হচ্ছে, হামলায় ১০-১২ জন অংশ নেয়। হামলার পর তারা কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ হয়ে কাকলীর দিকে চলে যায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম জানান, ঘটনার পর ডিবির টিম ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। রিয়াজ রহমানকে কেন গুলি করা হলো, তার ক্ষতি হলে লাভবান কারা- এসব বিষয় বিশ্লেষণ করছে ডিবি।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ৪৬ নম্বর সড়কে ওয়েস্টিন হোটেলের পাশের ৪৬ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তরা রিয়াজ রহমানকে গুলি করে। এরপর তাকে বহনকারী গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আহত রিয়াজ রহমান গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বধীন ২০ দল।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print