বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » ছাত্রলীগ: তাই অস্ত্রসহ আটক করে ছেড়ে দিল পুলিশ

ছাত্রলীগ: তাই অস্ত্রসহ আটক করে ছেড়ে দিল পুলিশ

imagesপ্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ থেকে অস্ত্রসহ আটক হয়েও ছাড়া পেয়ে গেছেন চারজন। এদের মধ্যে একজন সরকারপন্থী চিকিৎসক নেতা উত্তম বড়ুয়া। বাকি তিনজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। পুলিশ বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে অস্ত্র বহনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাঁরা জানতেন না।
প্রধানমন্ত্রী যে জায়গায় অবস্থান করেন, তার আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যে তল্লাশিচৌকিতে গত সোমবার তাঁরা অস্ত্রসহ আটক হন।
শাহবাগ থানা-পুলিশ জানায়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা উত্তম কুমার বড়ুয়াকে সমাবেশ চলাকালে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৮টি গুলিসহ আটক করে পুলিশ। প্রায় একই সময়ে বিদেশি পিস্তল ও ১৪টি গুলিসহ আটক হন মিরপুর থানার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন। দুপুর আড়াইটার দিকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৩৯টি গুলিসহ আটক হন মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু সায়েম এবং তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ জসীমকে আরেকটি বিদেশি পিস্তল ও ২৫টি গুলিসহ আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা চারটি অস্ত্র ও গুলির বৈধ অনুমোদন রয়েছে। আরও তদন্তের জন্য অস্ত্রগুলো রেখে ওই চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ‘আসলে ওনারা জানতেন না (সভাস্থলে অস্ত্র বহনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে)। লাইসেন্স গান তো। যার যার অস্ত্র দিয়ে দেওয়া হবে, এখন এনকোয়ারি চলছে।’
অস্ত্রসহ আটক হয়ে ছাড়া পাওয়া চিকিৎসক নেতা উত্তম বড়ুয়া বলেন, এর আগে ২০১১ সালে তাঁর বাসায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সে জন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স নেন। সম্প্রতি তাঁর গাড়ির পেছনে ককটেল বিস্ফোরিত হলে তিনি অস্ত্রটি সঙ্গে রাখা শুরু করেন। সোমবারের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে তিনটা পর্যন্ত ছিলাম। এরপর আর বাসায় যেতে পারিনি। আমার পরিকল্পনা ছিল স্বাচিপের মিছিলের সঙ্গে মিটিংয়ের গেট পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসব। কিন্তু গেটে গিয়ে দেখি তল্লাশি চলছে। আমাকে বলল, সঙ্গে কিছু আছে কি না? আমি বললাম অস্ত্রের কথা। তখন তাঁরা বলল, আপনি ভেতরে যেতে পারবেন না। মিটিংয়ের পরে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
রমনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার শিবলী নোমান বলেন, ওই সমাবেশস্থলে তাঁদের অস্ত্র নিয়ে আসা উচিত হয়নি। তবে যেহেতু তাঁদের বৈধ অস্ত্র, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা সেগুলো সঙ্গে রাখতে পারেন। তাই অস্ত্রগুলো রেখে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print