শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া অনুমোদন

বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া অনুমোদন

মন্ত্রিসভায়

জরিমানার বিধান রেখে ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন (সংশোধন) আইন বা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৫-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে পরে এটির চুড়ান্ত অনুমোদন দেবে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বিধিবহির্ভূতভাবে বিদেশে সম্পদ অর্জন করলে তার এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সব ধরনের তথ্য চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে আইনে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে বিদেশি পক্ষের এজেন্ট নিয়োগের বিধান শিথিল, সেবা খাত অন্তর্ভুক্তসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে।’
মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনটি ১৯৪৭ সালের। ১৯৭৬ এবং ২০০৩ সালে সামান্য সংশোধন করা হয় আইনটি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনটিকে আরও যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আইনটি সংশোধনের জন্য ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কারিগরি সহায়তা নিয়ে কমিটি খসড়া সংশোধনী প্রণয়ন করে। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে খসড়ায় নতুন কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রচলিত অন্য সব আইনে (যেমন ব্যাংক কোম্পানি আইন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ইত্যাদি) দণ্ডারোপের ব্যবস্থা থাকলেও এ আইনে তা নেই। এতে বৈদেশিক মুদ্রা বিধি-বিধান লঙ্ঘনের জন্য তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এ আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রশাসনিক দণ্ডারোপ চালু করা গেলে তা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণকে সহজ করবে।’
সচিব বলেন, ‘সংশোধিত আইনে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বিধিবহির্ভূতভাবে বিদেশে সম্পদ অর্জন করলে তার তথ্য চাওয়ার বিদ্যমান ধারাটি অপর্যাপ্ত। বিদ্যমান আইনে শুধু প্রবাসীর বৈদেশিক মুদ্রা বা বৈদেশিক সিকিউরিটিজের তথ্য চাওয়া যায়। এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বা সিকিউরিটিজের পাশাপাশি বিদেশে স্থাবর বা অন্য সম্পত্তির তথ্য চাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে।
মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সেবা খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিদ্যমান আইনে এ খাতের বিষয়ে কিছু বলা নেই। এ প্রেক্ষাপটে সেবা খাতের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সহজ ও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া আইএমএফের দৃষ্টিকোণের আলোকে চলতি ও মূলধনী হিসাবে লেনদেন ও এতে বিনিময়যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করা, সিকিউরিটিজ, কারেন্সি ইত্যাদির সংজ্ঞা যুগোপযোগী করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের এখানে শাখা, প্রতিনিধি বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করতে বিনিয়োগ বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে যা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অফিস স্থাপনকে বিলম্বিত করে। এতে দেশ সম্ভাব্য বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এখন থেকে শুধু বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমোদনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে সংশোধিত আইনে। একই সঙ্গে বিদেশি পক্ষের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের আবশ্যকতা রহিত করা হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print