শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » আজ কলঙ্কময় জেলহত্যা দিবস

আজ কলঙ্কময় জেলহত্যা দিবস

আজ ইতিহাসের কলংকময় জেলহত্যা দিবস। ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে জেলখানার মতো নিরাপদ স্থানে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। বঙ্গবন্ধুর আজীবন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জাতীয় চার নেতা ঘৃণাভরে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ২ নভেম্বর মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটলে ১৫ আগস্টের ঘাতকরা কারাগারে ঢুকে নিউ সেলের ভেতর অন্তরীণ চার নেতাকে প্রথমে গুলি ও পরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ’০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার একটি বিশেষ আদালত ঢাকার একটি বিশেষ আদালত জেলহত্যার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পলাতক আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মোহাম্মদ আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড এবং কর্নেল ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ ও বজলুল হুদাসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, কেএম ওবায়দুর রহমান, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, তাহের উদ্দিন ঠাকুর ও মেজর (অব.) খায়রুজ্জামানকে খালাস দেয়া হয়। ’০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ এবং দফাদার আবুল হোসেন মৃধাকে খালাস দেন। এছাড়া নিু আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব্যাহতি) বজলুল হুদা, মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহম্মদকে খালাস দেন হাইকোর্ট। অন্য পলাতক আসামিরা আপিল না করায় হাইকোর্ট তাদের সাজা বহাল রাখেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ’০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে পৃথক লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ’১২ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ে অব্যাহতি পাওয়া মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধাকে অবিলম্বে নিু আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।
’১২ সালের ১ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সারসংক্ষেপ (কনসাইজ স্টেটমেন্ট) সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের খালাস করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল ও বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বহাল রাখার আরজি জানিয়ে এই সারসংক্ষেপ জমা দেয়া হয়। এরপর গত বছরের ৩০ এপ্রিল জেলহত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতি এ রায় ঘোষণা করেন। আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি (দফাদার) আবুল কাশেম মৃধাকে নিু আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেও হাইকোর্টের রায়ে তারা খালাস পান। তাদের খালাস দেয়া হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। তবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হলেও দুই আসামির কোনো সন্ধান নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এ দুই আসামি পলাতক রয়েছে।
জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বাণীতে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসটিকে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ঘাতক চক্রের উদ্দেশ্য ছিল অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের উত্থানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা। বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী ঘাতক চক্রের সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দিবসকে মানবতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি কলংকের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে এ চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।
আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী ও অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ এ উপলক্ষে বিকাল ৩টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা আহ্বান করেছে। এতে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দলটির পক্ষ থেকে ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি রয়েছে। ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে গণফোরাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, তাঁতী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print