বুধবার , ১৫ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » ফুটবল » সামরিক আদালত গঠনে পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধন

সামরিক আদালত গঠনে পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধন

পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধনপাকিস্তানের পার্লামেন্ট জাতীয় পরিষদ মঙ্গলবার দেশটির ২১তম সংবিধান সংশোধনের অনুমতি দিয়ে এ-সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বিচারে দেশটিতে সামরিক আদালত গঠন এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে সেনাবাহিনী ও সরকার।

পার্লামেন্ট জাতীয় পরিষদের ২৪৭ জন সদস্য ও সিনেট সদস্যরা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ভোট দেন। তবে জামায়াত ইসলামী (জেআই) ও জমিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-এফ (জেইউআই-এফ) দলের এমপিরা এই ভোটদানে বিরত থাকেন। তারা কোন যুক্তিতে ভোটদানে বিরত ছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে দল দুটির এমপিরা আজ বুধবার জাতীয় পরিষদের স্পিকার লাউঞ্জে  এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বসছেন।

বিলটি পাস কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা মঙ্গলবার সিনেটে ব্যাখ্যা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানিদের হত্যা করছে এমন সন্ত্রাসীদের নির্মূলে এই বিল। সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনে পুরো জাতি আজ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিলটির মাধ্যমে গত ৬০ বছরের অস্থিতিশীলতা দূরে করতে সক্ষম হব আমরা।’

জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অনেক দল ভোট না দেওয়ায় উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। বিলটি পাসের জন্য জাতীয় পরিষদের মোট ৩৪২ এমপি ও ১০৪ সিনেট সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল।

আইনটি এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাস হবে এবং প্রেসিডেন্ট এ সপ্তাহেই এটি সই করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের আদালত প্রতিষ্ঠা হলে তা অন্তত দুই বছর কাজ করবে।

পেশোয়ারে গত ১৬ ডিসেম্বরে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে বড় ধরনের তালেবান হামলার পর বিশেষ সামরিক আদালত গঠনের এ উদ্যোগ নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।

তালেবান হামলা ঠেকাতে সামরিক আদালত গঠনের বিষয়ে বেশির ভাগ রাজনীতিবিদই একমত পোষণ করেছে। তবে দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান প্রবণতার কারণে সামরিক শক্তির এ নাটকীয় প্রসার নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে কেউ কেউ।

জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন সভার বক্তব্যে প্রধান বিরোধী দল পিপিপির নেতা সাঈদ খুরশিদ আহমেদ শাহ বলেন, ‘আমরা অতীতে সামরিক আদালত গঠনের পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু এখন জননিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের জনগণকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সরকার যা করছে, ভেবে-চিন্তে করছে। জনগণকে রক্ষায় এই বিলটি কার্যকরী হবে। ’

পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেবে। সাধারণ মানুষ এতে ক্ষতির শিকার হতে পারে। ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রথমে বিলটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও পরে এতে সম্মতি দেয়।

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিম বাজওয়া টুইটারে এক বার্তায় বলেছেন, ‘বিশেষ আদালত সেনাবাহিনীর কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয় বরং সময়ের দাবি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের পদ্ধতিই চালু হবে।’

পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী বলছে, দেশে তালেবান বিদ্রোহ একটি যুদ্ধের শামিল। সে কারণেই এখানে সামরিক আদালত ব্যবস্থা চালুর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র : ডন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print