বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » এরশাদের ১৮ দফা

এরশাদের ১৮ দফা

ARSHAD-1420094562জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বৃহস্পতিবারের মহাসমাবেশ থেকে ১৮ দফা দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

১৮ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করে আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধান প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রদান, উপজেলায় আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা দলীয়করণমুক্ত রাখা, ধর্মীয় মূল্যবোধকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা এবং ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব দমন করা।

সব দলকে একসঙ্গে বসার আহ্বান জানান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ঢাকাবাসীর ওপর অবিচার করছে। আমার সময়ে সাতটি ফ্লাইওভারের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়। এই ফ্লাইভার হলে আজ ঢাকায় যানজট হতো না।’

‘জেনারেল জিয়া হত্যার পর সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। আমি সেটা দমন করি। এর জন্য রাষ্ট্রপতি আমাকে প্রশংসাপত্রও দিয়েছিলেন। তারপর রাষ্ট্রপতি সাত্তারের সরকার আমাকে বলেছিল, আমার মন্ত্রিসভা দুর্নীতিপরায়ণ, নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না, আপনি ক্ষমতা গ্রহণ করুন। সে সময় আমার ওপর দেশ শাসনের ক্ষমতা অর্পিত হয়েছিল। আমি জোর করে ক্ষমতা গ্রহণ করিনি, আমার ওপর ক্ষমতা গ্রহণের দায়িত্ব পড়েছিল।’

জাতীয় পার্টির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি দাবি করেন, ‘আমি ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র, ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছি। শুক্রবার ছুটি ঘোষণা করছি। আমার সময়ে কোনো মন্দিরে হামলা হয়নি।’

এরশাদ বলেন, ‘১৯৯০ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই স্বেচ্ছায় আমি ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপর আমাকে কৌশলে, ষড়যন্ত্র করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করে। বিভিন্ন মামলা দিয়ে আমাকে জেলে পাঠানো হয়। আমার ১৪২টি জনসভায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এই শুরু হলো বিএনপির প্রতিহিংসার রাজনীতি। সেই প্রতিহিংসার রাজনীতির সংস্কৃতি আজও রয়েছে।’
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই সংস্কৃতি আপনি চালু করেছিলেন। এখন সেই সংস্কৃতি এখন আপনার ওপর চড়াও হয়েছে। আমার ছেলে-মেয়েকে জেলে নিয়েছিলেন। আপনার ছেলেদের সঙ্গে বছরের পর দেখা হয় না। কবে হবে আল্লাহই জানেন। আপনি আমার বিরুদ্ধে বিশেষ আদালত গঠন করেছিলেন। সেই বিশেষ আদালত আপনার জন্য করা হয়েছে। ইতিহাস আপনি সৃষ্টি করেছিলেন, সেই ইতিহাস আপনাকে শাস্তি দিচ্ছে। আপনি বিচারবিভাগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। শত নির্যাতন সহ্য করে জাপা টিকে আছে, বিএনপি শেষ।’

 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহিলা পার্টির সভানেত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতী প্রমুখ।
 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print