সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » আমাকে মাইনাস করতে পারে একমাত্র জনগণ-খালেদা

আমাকে মাইনাস করতে পারে একমাত্র জনগণ-খালেদা

JJJJ-1420013793বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সরকার আমাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চায়। আমাকে মাইনাস করতে পারে একমাত্র জনগণ। আমাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে গিয়ে তারাই এখন মাইনাস হয়ে যাচ্ছে। তারা জনগনের আশা আকাঙ্খা কোন কিছুর প্রতি পরোয়া করছেনা।

বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রহসনে পরিণত হয়েছে। শতকরা ৯৫ জনের বেশি ওই নির্বাচন বর্জন করে। যারা নতুন ভোটার হয়েছিল তারও ভোট দিতে পারেনি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীন এই বাংলাদেশের মালিকানা এখন আর জনগনের কাছে নেই। আওয়ামী লীগ সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে জনগনের ওপর স্বৈরশাসন চেপে বসেছে। জাতীয় সংসদ বিরোধীদল শূন্য হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। সবাই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ সংকট শুধু বিএনপির একার নয়। তাই সবাইকে আন্দোলনে আসার আহবান জানিয়ে খালেদা বলেন, তাহলেই জনগনের বিজয় অনিবার্য।

খালেদা বলেন, এরকম অগণতান্ত্রিক একটি সরকারের দেশ পরিচালনার কোন অধিকার থাকতে পারে না। মিথ্যা মামলায় অস্থায়ী আদালতে আমি হাজিরা দিতে যাবার সময় আমার ওপর সশস্ত্র হামলা হয়। এদের ছবিসহ পত্রিকায় ছাপা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন তাদের এরকম আচরণের ফল ভয়াবহ হবে।

বিচার বিভাগকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রনের জন্য তারা চেষ্টা করছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। দেখামাত্র গুলি করছে। তিনি বলেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আরো সরকার আসছে। তাই বুঝে শুনে কাজ করবেন। ছাত্র লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে জনগন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে এখন আতঙ্কের জনপদের নাম বাংলাদেশ।

র‌্যাব ও পুলিশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এদের কোন কোন কর্মকর্তা এখন দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করছে। র‌্যাব সরকারের ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে কাজ করছে। তাই র‌্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানান তিনি।

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে জানিয়ে খালেদা বলেন, কুইক রেণ্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র, পদ্মা সেতু রেলের কালো বেড়ালসহ বিভিন্নভাবে দুর্নীতির  হাজার হাজার কোটি ডলার দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের নির্বাচন নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে খালেদা কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন। এর অন্যতম, নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করা। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, কমিশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পরিবর্তন।

এছাড়া নির্বাচনের উপযোগি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন, সব রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি, বন্ধ মিডিয়া খুলে দেওয়া ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এ নিয়ে তিন বার সংবাদ সম্মেলনে করলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print