মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » ‘পড়ার ২ ঘণ্টার মধ্যেই জিহাদের মৃত্যু হয়’

‘পড়ার ২ ঘণ্টার মধ্যেই জিহাদের মৃত্যু হয়’

জিহাদরাজধানীর শাজাহানপুরে ওয়াসার পরিত্যক্ত পানির পাম্পের পাইপে পড়ে যাওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যে শিশু জিহাদের মৃত্যু হয়। এ সময় সে মাথায় আঘাত পায়। তবে আঘাতে নয়, পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী।

রবিবার সকাল পৌনে ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। তার কার্যালয়ে এ প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ড. হাবিবুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি জিহাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় শাজাহানপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আবু জাফর জিহাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন জিহাদের মাথা ও শরীরে জখমের দাগ রয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী জানান, পাইপে পড়ার সময় জিহাদ মাথায় ও শরীরে আঘাত পায়। তবে এতে তার মৃত্যু হয়নি। পানিতে পড়ে যাওয়ার পরই অল্প সময়ের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

তিনি জানান, জিহাদ যদি ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে পাইপে পড়ে যায় তাহলে তার দু’ঘণ্টার মধ্যে অর্থ্যাৎ ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়েছে।

ড. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী জানান, যদি জিহাদ পানিতে পড়ে না যেত তাহলে হয়তো বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে জিহাদের মৃতদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দাফনের জন্য তার লাশ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে নেওয়া হচ্ছে।

শাজাহানপুরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে রেলওয়ে কলোনির একটি পরিত্যক্ত পাইপের মধ্যে পড়ে যায় সাড়ে তিন বছর বয়েসী শিশু জিহাদ। এর ২৩ ঘণ্টা পর ওই পাইপ থেকেই উদ্ধার করা হয় তার লাশ।

ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করার আধঘণ্টার মাথায় স্থানীয়রা উদ্ধার করেন শিশু জিহাদের লাশ। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির পরিত্যক্ত পাইপ থেকেই নিজেদের তৈরি করা বর্শার মতো এ্যাঙ্গেল দিয়ে জিহাদকে টেনে তোলেন উদ্ধারকর্মীরা।

এর পর পরই তাকে গাড়িতে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিয়াজ মোর্শেদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ও ইসিজি করার পর জিহাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print