রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » জিহাদ উদ্ধারে গাফিলতি : মামলা করবে পুলিশ

জিহাদ উদ্ধারে গাফিলতি : মামলা করবে পুলিশ

childরাজধানীর শাহজাহানপুরে ওয়াসার পানির পরিত্যক্ত পাইপের মধ্যে পড়ে যাওয়া শিশু জিহাদের উদ্ধার কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ এনে মামলা করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

শিশু জিহাদ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে পানির পাইপের মধ্যে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকা ওয়াসার বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার অভিযান চালায়। ২৩ ঘণ্টার ব্যর্থ অভিযানে পাইপের মধ্যে জিহাদের অস্তিত্ব না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উদ্ধার কাজ সমাপ্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় জিহাদের নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছে।

ওই ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে শনিবার বিকেলে জরুরি বৈঠক শেষে মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক শেষে আমরা বুঝতে পেরেছি, জিহাদকে উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের গাফিলতি রয়েছে। তাই পুলিশ বাদী হয়ে উদ্ধারকর্মীদের বিরুদ্ধে শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করবে।’

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পরিত্যক্ত ওই পাইপের মধ্যে পড়ে যায় সাড়ে তিন বছর বয়েসী শিশু জিহাদ। এর ২৩ ঘণ্টা পর পরিত্যক্ত পাইপ থেকেই উদ্ধার করা হলো জিহাদের লাশ।

উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া রামপুরার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মুন দ্য রিপোর্টকে জানান, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পর তিনিসহ বেশ কয়েকজন মিলে নিজেদের তৈরি করা বর্শার মতো এ্যাঙ্গেল দিয়ে জিহাদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। প্রায় আড়াই শ’ ফুটের মতো রশি ফেলার পর বর্শায় কিছু আটকানো বিষয়টি অনুভব করেন তারা। এরপর তা টেনে উপরে ওঠালে দেখা যায়, শিশু জিহাদের গায়ের জামায় আটকায় বর্শাটি।

উদ্ধার কার্যক্রমে তার সাথে সুজন দাশ রাহুল ও ফারুক হোসেন নামে আরও দুজন অংশ নেয় বলে জানান আবদুল্লাহ আল মুন।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঘটনার পর পাইপের ভেতর আটকেপড়া শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাবসহ স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা অংশ নেয়।

শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত চলে প্রথম দফার উদ্ধার অভিযান। রাত ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘটনাটিকে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকর্মী দলের সঙ্গে কথা বলে তার ধারণা হয়েছে যে পাইপের ভেতরে শিশুটি নেই। তবে তারপর বিষয়টি নিশ্চিত হতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি মো. হালিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভেতরে কোনো ভিকটিম নেই।’ অভিযান শেষ পর্যায়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের আর কোনো কাজ নেই। দেশীয় পদ্ধতিতে স্থানীয় মানুষ যে চেষ্টা করছে, আমরা তাতে সহায়তা করছি।’

এরপর বিকেল পৌনে তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

কিন্তু তার সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই উদ্ধার হয় শিশু জিহাদের লাশ।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print