শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » ফায়ার সার্ভিসের ওপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, কলোনিতে ভাঙচুর

ফায়ার সার্ভিসের ওপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, কলোনিতে ভাঙচুর

gihadশিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার বিকালে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছে বিক্ষুব্ধ জনতা।রেলওয়ে সুপার মার্কেটের আশেপাশের সব দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলেছে স্থানীয় জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোন অ্যাকশনে যায়নি।

শিশু জিহাদকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকায় তীব্র ক্ষুব্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী। শুধু এলাকাবাসী নয় দেশবাসীও তাদের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শাহাজাদপুর এলাকাবাসীসহ সকলেই প্রশ্ন অত্যাধুনিক ক্যামেরা কিংবা অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেও কেন তারা জিয়াদকে উদ্ধার করতে পারলেন না।

তাই এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসের দক্ষতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের অভিযান স্থগিত করার পরই স্থানীয় উদ্ধারকারীদের প্রচেষ্টায় মাকসুদুল নামের এক যুবক খাঁচা পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে শনিবার দুপুর পৌনে ৩ টায় উদ্ধার করে।

উদ্ধার করার পরই স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন। তারা পাম্পের অস্থায়ী স্থাপনা ভাংচুর করেন। এলাকায় জুতা দেখিয়ে মিছিল করেন স্থানীয়রা। মিছিল থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িদের ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করা হয়েছে।

শাহাজাদপুর এলাকায় হাসান নামের এক যুবক জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জিয়াদকে উদ্ধার করতে পারলেন না। তাদের অবহেলার কারণেই জিয়াদকে জীবিত উদ্ধার করা গেল না।

এর আগে শনিবার বেলা ৩ টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দেন। জিহাদ কে পাওয়ার পর ক্ষেপে উঠেন এলাকাবাসী।

মহাপরিচালক জানান, অত্যাধুনিক ক্যামেরা ব্যবহার করেও পাইপের মধ্যে শিশু জিয়াদের  অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে পাইপের ৬৭২ ফুট নিচে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোরহোল ক্যামেরা নামিয়ে ঘণ্টাখানেক তল্লাশি চালানোর পরও পৌনে ৩টার দিকে সেটিকে গুজব বলে জানান দায়িত্বরতরা।

তারা জানান, ক্যামেরা নামানোর পর একেবারে শেষ প্রান্তে তেলাপোকা, টিকিটিকিও দেখা গেছে কিন্তু শিশুর শরীর দেখা যায়নি বা শরীরের মতো কিছু দেখা যায়নি। এটা সম্পূর্ণ গুজব।

এমনকি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও জানান, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা নিচে নামানো হয়েছিল, সেখানে মানুষের কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি। কিছু কীটপতঙ্গের ছবি দেখা গেছে। ক্যামরায় দেখে মনে হচ্ছে সেখানে কেউ নেই। তারপরও পাইপের নিচে যে আবর্জনা আছে সেগুলো তুলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব।

রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলওয়ে কলোনিতে শুক্রবার দুপুরে প্রায় ৬শ ফুট গভীরে ১৭ ইঞ্চি ব্যাসের পানির পাইপে জিহাদ নামে সাড়ে তিন বছরের শিশুটি পড়ে যায়।

তবে স্থানীয়রা জানান, শিশুটি খেলতে খেলতে হঠাৎ করে উন্মুক্ত পাইপটির ভেতরে পড়ে যায়। এরপর বাচ্চাটিকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলায় ফায়র সার্ভিস।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print