শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » ভারতীয় ড্রেসিংরুমে নাটকীয়তা !

ভারতীয় ড্রেসিংরুমে নাটকীয়তা !

ভারত টেস্টঅস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেন টেস্টের চতুর্থ দিন সাজঘরে নাকি মুখোমুখি হয়েছিলেন বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান। দুজনের মধ্যে বেশ তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল বলে খবর! এ ঘটনা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ক্রিকেট দুনিয়ায়। গত দুই দশকে ভারতীয় দলে এমন কিছু আলোচিত ঘটনা দেখে নেওয়া যেতে পারে।

সিধু-আজহার
১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে সফরের মাঝপথেই একটি ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে এসেছিলেন নভোজাত সিং সিধু। পরে জানা গিয়েছিল, তখনকার অধিনায়ক আজহারউদ্দিনের বিরূপ মন্তব্যের কারণেই নাকি ফিরে এসেছিলেন সিধু।

শেবাগ-রাইট
২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে অনুষ্ঠিত ওয়ানডেতে দলের বিপর্যয়ে উচ্চাভিলাষী শট খেলে আউট হয়ে আসার পর মেজাজ হারিয়ে বীরেন্দর শেবাগকে চড় মেরে বসেছিলেন (কেউ বলেন, কলার চেপে ধরেছিলেন) কোচ জন রাইট! এ ঘটনার পর খেলোয়াড়েরা এককাট্টা হয়েছিলেন কোচের বিরুদ্ধে। শেবাগ নাকি অনেক দিন কথাই বলেননি রাইটের সঙ্গে!

টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়
২০০৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মুলতান টেস্টে শচীন টেন্ডুলকারের সেই ঘটনাটা বহুল আলোচিত। মুলতান টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন টেন্ডুলকার। এ অবস্থায় ইনিংস ঘোষণা করেছিলেন অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। বেজায় চটেছিলেন ‘লিটল মাস্টার’। আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ায় বেশ হতাশ হয়েছিলেন। দ্রাবিড়কে বলেছিলেন, ‘একা থাকতে দাও।’

ধোনি-শেবাগ
২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনি ও শেবাগের সম্পর্ক নিয়ে। অধিনায়ক ধোনির সঙ্গে তখনকার সহ-অধিনায়ক শেবাগের নাকি মতৈক্য হচ্ছিল না। নটিংহামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচের পর মিডিয়ার সামনে হাতে হাত ধরে প্যারেড করেছিল ভারত দল। বার্তা দিতে চেয়েছিল, তারা ভীষণ একতাবদ্ধ!

খেলোয়াড়দের মারামারি
পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পানশালায় সমর্থকদের সঙ্গে কয়েকজন ভারতীয় খেলোয়াড় ঝামেলা পাকিয়ে বসলেন। এর এক দিন পর কয়েকজন খেলোয়াড়ের বাজে ফর্ম, ফিটনেস ও আচরণ নিয়ে তুলোধোনা করলেন কোচ গ্যারি কারস্টেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে পুরো বিষয়টা অস্বীকার করেন খেলোয়াড়েরা। পরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি আমলে নিয়ে জড়িত খেলোয়াড়দের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল।

ধোনি-গম্ভীর
২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ধোনির সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিল দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়, বিশেষ করে গৌতম গম্ভীরের। অ্যাডিলেড ওভালে ধোনির রান তাড়া করে খেলার কৌশলের বিরুদ্ধে ছিলেন গম্ভীর। যদিও পরে দল থেকে জানানো হলো, ‘সব ঠিক আছে।’ বিষয়টি স্পষ্ট হলো যখন এ ঘটনার জেরে গম্ভীরকে দলের বাইরে রাখা হলো তখন।
নিশ্চুপ ধোনি
২০১৩ সালে আইপিএল ফিক্সিং কেলেঙ্কারি নিয়ে নানা কথা যখন বাতাসে, ভারত তখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে যাবে ইংল্যান্ডে। সফর-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বারবার আইপিএল ফিক্সিং নিয়ে প্রশ্ন ধেয়ে আসছিল ধোনির দিকে। মুখে কুলুপ এঁটে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। এ অভিজ্ঞতায় পরের দুই বিদেশ সফরের আগে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন থেকে বিরত থাকল ভারতীয় দল!
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print