মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে হামলা: ফখরুল

ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে হামলা: ফখরুল

Hewlett-Packardরাজধানীর বকশীবাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ হামলায় ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

আজ বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

হামলার প্রতিবাদে কাল বৃহস্পতিবার সারা দেশের জেলা শহর ও ঢাকা মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে আজ হাজিরা দিতে যান। এ সময় তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে দলীয় নেতা-কর্মীসহ অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত হন। খালেদা জিয়া এজলাশে উপস্থিত হওয়ার ৫/৬ মিনিট আগে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সেখানে আক্রমণ চালায়। পুলিশ ও র‍্যাবের ছত্রছায়ায় এ হামলা চালানো হয়। এতে ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে, যার মধ্যে শতাধিক লোকের অবস্থা মারাত্মক। সেখান থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অবৈধ সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দমন করতে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। আজ তা মারাত্মকভাবে প্রকাশ ঘটেছে। কয়েক দিন ধরে অবৈধ সরকারের মন্ত্রীরা বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশালীন উক্তি করছেন। আজকের এ হামলা তারই একটি নমুনা।

গাজীপুরের জনসভা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গাজীপুরে আমরা জনসভা করার অনুমতি পেয়েছি। ছাত্রলীগ অন্যায়ভাবে গতকাল রাতে জনসভা স্থলে আক্রমণ চালায়। মঞ্চ তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের মারধর করে। ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল কারা দিবস উপলক্ষে গাজীপুর যান। তিনি সেখান থেকে ফিরে আসার পর থেকে এ তাণ্ডব শুরু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই কি গণতন্ত্রবিরোধী এ কার্যকলাপ শুরু হলো?’ তিনি বলেন, গাজীপুরের জনসভা যথাসময়েই হবে।
এক সাংসদের গাড়িতে হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ হামলার দায় সরকার, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নিতে হবে। গাড়ি তারা পুড়িয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হাবিব উন নবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, দলের ছয় শতাধিক নেতা–কর্মীকে আহত করা এবং ৫০ জনের মতো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কাল বৃহস্পতিবার সারা দেশের জেলা শহর ও ঢাকা মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফখরুল।

ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে বকশিবাজারে হামলা হয়েছে—মির্জা ফখরুলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেখানে শুধু আমি ছিলাম না ছাত্রলীগের অধিকাংশ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল। কারণ, সকাল থেকেই বিএনপি-ছাত্রদল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সুফিয়া কামাল হল, অমর একুশে হলে আক্রমণ করে। এতে ছাত্রলীগের কর্মীরা বাধা দিলে তারাই আমাদের ওপর আক্রমণ করে। আমরা বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীদের নিবৃত্ত করতে সেখানে যাই। পরে তাদের ফিরিয়ে আনি।’ হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। হামলায় আমি অংশ নেইনি। তারা সুফিয়া কামাল হল, অমর একুশে হলে যে আক্রমণ করেছে, তার চিহ্ন এখনো আছে। আপনারা গিয়ে দেখে আসতে পারেন।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print