মঙ্গলবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » আসামের তিন জেলায় সহিংসতায় নিহত ৬৪

আসামের তিন জেলায় সহিংসতায় নিহত ৬৪

asamফের জাতিদাঙ্গার আগুন জ্বলে উঠল উত্তর-পূর্ব ভারতে৷ অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটান লাগোয়া আসামের তিনটি জেলায় মঙ্গলবার গণহত্যা চালাল বড়ো বিদ্রোহীরা৷ আসামের কোকরাঝোড়, শোণিতপুর এবং ধুবড়ি জেলায় অন্তত ৬৪ জন আদিবাসীকে খুন করেছে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বড়োল্যান্ড (সংবিজিত) তথা এনডিএফবি(এস) সংগঠনের হামলাকারীরা৷ এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে৷ নিহতদের অধিকাংশই সাঁওতাল সম্প্রদায়ভুক্ত৷ তবে তাদের মধ্যে কোল, ভিল ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের কয়েকজন রয়েছেন বলে খবর৷ অনুমান করা হচ্ছে, গত একমাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বড়ো বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আসাম পুলিশ কম্যান্ডো এবং সেনার যৌথবাহিনী যে অভিযান চালাচ্ছে, তার বদলা নিতেই এই হামলা৷ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্টতই আসাহায়তা প্রকাশ করেছে প্রশাসন৷

এ কে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র নিয়েও হত্যালীলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা৷ আহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে৷ সোমবার পুলিশের গুলিতে চিরং জেলায় দু’জন এনডিএফবি(এস) বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়৷ তার পরই সংবিজিত বসুমাতারির নেতৃত্বাধীন ওই সংগঠন হুমকি দেয়, ওই ঘটনার বদলা নিতে মঙ্গলবার রাত ৯টার পর থেকে গণহত্যা শুরু করবে তারা৷ সেই হুমকিকেই এ দিন ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি করে ছাড়ল বিদ্রোহীরা৷ অন্য একটি সূত্রের খবর, সন্ধে সাড়ে ৬টা থেকেই হামলা শুরু হয়ে যায়৷

অরুণাচলপ্রদেশ-লাগোয়া শোণিতপুর জেলার অবস্থা সবথেকে ভয়াবহ৷ সেখানকার পাভোই সংরক্ষিত অরণ্য এবং বাতাসিপুরে হামলা চালানো হয়৷ আসাম পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) খগেন শর্মা জানিয়েছেন, পাভোই অরণ্যের সিমাঙ্গপাড়া এলাকার আদিবাসী বসতিগুলিতেই হামলার নৃশসংতা ছিল সবথেকে বেশি৷ ধুবড়ি জেলার মধ্যে লাছিমপুরকেই হামলার জন্য বিশেষ ভাবে বেছে নেয় বড়ো বিদ্রোহীরা৷ এই পরিস্থিতিতে কার্যত প্রশাসনিক আসাহায়তার স্বীকার করে নিয়েছেন শোণিতপুরের পুলিশ সুপার সুরজিত্ সিং৷ তার কথায়, ‘পুরো অবস্থাটা হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়েছে৷ কিন্ত্ত এখনও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি৷’ এই ঘটনার জেরে গোটা আসাম জুড়েই রেড অ্যালার্ট জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন৷

কোকরাঝাড় জেলার সেরফাংগুড়ি থানার পাখরিগুড়ি এবং ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী উল্টাপানি এলাকায় উন্মত্ত বড়োপন্থীদের তাণ্ডব ছিল চোখে পড়ার মতো৷ পাখরিগুড়িই ছিল বিদ্রোহীদের প্রথম নিশানা৷ আসামের তিনটি জেলায় মোট পাঁচটি হামলা তারা চালিয়েছে৷ সূত্রের খবর, বড়ো-পন্থীদের তরফ থেকে এ রকম হামলার আশঙ্কা যে ছিলই তা স্বীকার করেছে পুলিশ৷ সেই মতো এলাকার মুসলিম বাসিন্দাদের বসতিগুলিতে সুরক্ষা বাড়িয়েছিল প্রশাসন৷ কিন্ত্ত সেই হিসেব উল্টে দিয়ে সরাসরি আদিবাসীদের গ্রামগুলিকেই নিশানা করল বিদ্রোহীরা৷ এর আগেও, গত সোমবার কোকরাঝাড়ের পাতগাঁওয়ে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বড়োপন্থীরা৷ তাতে আহত হন মোট তিন জন৷ এ দিন সকালেই একটি সাংবাদিক বৈঠকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ দাবি করেছিলেন যে, তার সরকার কিছুতেই বিদ্রোহী হুমকির সামনে মাথা নত করবে না৷ অনুমান করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘চ্যালেঞ্জ’ ধরে নিয়ে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে বড়োপন্থীরা৷

রাজ্যের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রতি আসামের বড়ো বিদ্রোহীদের বিদ্বেষ প্রকাশের ঘটনা এই প্রথম নয়৷ ১৮ বছর আগে, ১৯৯৭ সালে নিম্ন-আসামে বড়ো ও সাঁওতালদের মধ্যে তীব্র জাতিদাঙ্গা সংঘটিত হয়৷ সে বার নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল৷ নিহতের অধিকাংশই ছিলেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের৷ একটানা হিংসার জেরে ঘরছাড়া হয়েছিলেন অম্তত ৫০ হাজার মানুষ৷ প্রায় দুই দশক ধরে ত্রাণশিবিরে কাটাতে বাধ্য হয়েছেন তারা৷ এ বারের পরিস্থিতিও সে দিকে এগোতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের৷ পাশাপাশি, বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে যে, এ বারের দাঙ্গায় নিহতের যে সংখ্যা সামনে আসছে, আসল সংখ্যাটা তার তুলনায় অনেকটাই বেশি।– সংবাদ সংস্থা


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print