সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » তিস্তা চুক্তি অসম্ভব!

তিস্তা চুক্তি অসম্ভব!

শামীম হোসেন

tista 101 pixঅদূর ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী রাজিব ব্যানার্জি বলেছেন, ‘শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি দিয়ে অন্তত দুই লাখ একর জমির সেচ নিশ্চিত করতে চায় রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্য অর্জনে আরো সময় লাগবে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার যতই উদ্যোগী হোক, শিগগিরই এই চুক্তি সই অসম্ভব।’

তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। সেচকাজে সেই নদীর পানির ওপর ভরসা করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল। গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার পানিপ্রবাহ কমছিল আশঙ্কাজনক হারে। এখন তিস্তা মৃতপ্রায়। বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় এই নদীর ওপারের ছবি কিন্তু একেবারই ভিন্ন। সেই নদীর পানি দিয়েই চলছে ভারতীয় অংশের সেচ কাজ।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য বলছে, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি দিয়ে এখনও অন্তত দেড় লাখ একর জমিতে সেচকাজ চলছে। যদিও এর বেশি জমি এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। এ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রায় দুই লাখ একর চাষের জন্য জল দেব। কিন্তু গত বছর শুকনো মৌসুমে আমরা দেড় লাখ জমি সেচের আওতায় আনতে পেরেছি। তিস্তার জলের যে অবস্থা, তা দিয়ে আমাদের নিজেদেরই চাষ হয় না। সুতরাং নিজেদের লক্ষ্য পূরণ না করে অন্যকে কিভাবে জল দেব।’

রাজ্যের সেচমন্ত্রীর দাবি, ভারতের কৃষি উৎপাদনে শীর্ষস্থান ফিরে পেতে চায় পশ্চিমবঙ্গ। আর তাই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মনোভাব এখনও আগের মতোই নেতিবাচক। কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার যাই বলুক, পানিবণ্টন চুক্তি তাই অনেক সময়ের ব্যাপার। রাজিব ব্যানার্জি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের চাষাবাদের জন্য সম্পূর্ণ জল দেওয়া। এই মুহূর্তে আমরা সেই কাজেই মনোনিবেশ করেছি। আগে আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হোক। আর এটি এমন একটি ইস্যু, যা শুধু কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই হবে না। এর জন্য রাজ্যকেও সম্মতি জানাতে হবে।’

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলে আসছিলেন নরেন্দ্র মোদির সরকার। সর্বশেষ সার্ক সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতেও তিস্তাসহ অমীমাংসিত সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা ও দিল্লি পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতার বিরোধিতায় শেষ পর্যন্ত সই হয়নি তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি। রাজনৈতিক টানাপড়েনে সুর খানিকটা নরম করেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে এখনও আগের অবস্থানে অনড় তারা।

বিশ্লেষকরা তাই বলছেন, কেবল দিল্লির সঙ্গে নয়, তিস্তা চুক্তি সই করতে হলে পশ্চিমবঙ্গ তথা রাজ্য সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো খুবই জরুরি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print