শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » জাতীয় সম্প্রচার আইন প্রণয়নে ৩৮ সদস্যের কমিটি

জাতীয় সম্প্রচার আইন প্রণয়নে ৩৮ সদস্যের কমিটি

জাতীয় সম্প্রচার আইন2জাতীয় সম্প্রচার আইন ও জাতীয় সম্প্রচার কমিশন আইন প্রণয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমানের নেতৃত্বে ৩৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (সম্প্রচার) মোহাম্মদ আবুল হোসেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গঠিত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম রহমানকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিশিষ্টজন ছাড়াও এ্যাডভোকেট, বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ, নাট্যব্যক্তিত্বসহ সকল ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে আছেনতথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (সম্প্রচার) মোহাম্মদ আবুল হোসেন। জাতীয় সম্প্রচার আইনের জন্য দুই মাস এবং জাতীয় সম্প্রচার কমিশন আইনের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।

উল্লেখ, চলতি বছরের ৪ আগস্ট জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। ৭ আগস্ট এ সংক্রান্ত গেজেট প্রণয়ন হয়। প্রণীত নীতিমালা নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

জাতীয় সম্প্রচার আইন1

‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪’ অনুযায়ী জাতীয় আদর্শ ও উদ্দেশ্যের প্রতি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা, জনগণের প্রতি অবমাননা, স্বাধীন অখণ্ড বাংলাদেশের সংহতি ক্ষুণ্ন হতে পারে- এমন দৃশ্য ও বক্তব্য সম্প্রচার করা যাবে না।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো সংস্থা, অপরাধ রোধ, অনুসন্ধান ও তদন্ত এবং অপরাধীকে দণ্ড প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রতি কটাক্ষ বা বিদ্রূপ কিংবা তাদের পেশাগত ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন কোনো দৃশ্য প্রদর্শন কিংবা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।

এ ছাড়া এমন কিছু প্রচার না করা যা অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, বিভিন্ন শ্রেণী ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে। ব্যক্তির প্রাইভেসির জন্য ক্ষতিকর কিছু প্রচার করা যাবে না, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কিছুও প্রচার করা যাবে না।

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষতিকর কিছু প্রচার করা যাবে না। কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের অনুকূলে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না, যা অন্য কোনো বিদেশী রাষ্ট্রকে আঘাতের কারণ হয়। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রচার পরিহার করতে হবে বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন কিছু প্রচার করা যাবে না, যা দুর্নীতিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে। বিভিন্ন মতাবলম্বীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরই টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক ও সাংবাদিকরা এ নীতিমালার বিভিন্ন ধারার অপব্যবহারের আশঙ্কা করে এর বিরোধিতা করেন।

ওই সময় জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার চার দিনের মাথায় (১১ আগস্ট) তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, সম্প্রচার মাধ্যমের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এ নীতিমালা করা হয়েছে। সম্প্রচার নীতিমালার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রচার আইন ও সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হবে। তখন আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না।

নীতিমালায় জাতীয় সম্প্রচার আইন ও স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠন করার কথাও বলা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print