মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » স্বাস্থ্য » স্নায়ুবিজ্ঞানে নতুন মাত্রা

স্নায়ুবিজ্ঞানে নতুন মাত্রা

imagesমানবমস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা জানার চেষ্টায় স্নায়ুবিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন। আগামী কয়েক বছরে ইউরোপের একদল বিজ্ঞানী হিউম্যান ব্রেইন প্রজেক্টের আওতায় মানবমস্তিষ্কের আদলে একটি কম্পিউারনির্ভর প্রতিরূপ তৈরি করবেন।
আবার যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী চেষ্টা করছেন আরও বিস্তৃত পরিসরে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের গতিবিধি বা কার্যক্রমের একটি চিত্ররূপ তৈরি করার। উচ্চাভিলাষী এসব প্রকল্পে সাফল্য অর্জিত হলে স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

জার্মানি ও কানাডার কয়েকজন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল এক দশকের চেষ্টায় মস্তিষ্কের একটি ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেছে। মস্তিষ্ককের প্রতিটি অংশ অতি সূক্ষ্মভাবে দেখার ক্ষেত্রে এটি আগের যেকোনো মানচিত্রের তুলনায় ৫০ গুণ বেশি কার্যকর।

মস্তিষ্কের জিজিটাল প্রতিরূপ থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য জার্মানির জে লিচ রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী কাট্রিন আমুন্টসের নেতৃত্বে গবেষকেরা ৬৫ বছর বয়সী একজন প্রয়াত নারীর মস্তিষ্কের ছবি তৈরির কাজে চৌম্বক অনুরণন চিত্র (এমআরআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। তারপর সেই মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ছবি তোলা হয়। এ রকম সাত হাজার ৪০৪টি ছবি সমন্বয়ের মাধ্যমে কানাডার মন্ট্রিয়ল নিউরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অ্যালান ইভানস ও তাঁর সহযোগীরা বিপুল পরিমাণ (এক টেরাবাইট) তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। মস্তিষ্ককে বিভিন্ন অংশে ভাগ করায় অনেক টিস্যু ছিঁড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়।

পূর্ণাঙ্গ ছবিতে ইভানসকে সেগুলো ঠিকঠাক করতে হয়। তা ছাড়া তিনি সবগুলো অংশ আবার আগের মতো করে জুড়ে দেন। এতে চমকপ্রদ ফল হিসেবে পাওয়া যায় একটি পরিপূর্ণ মানচিত্র। এর মধ্যে ছোট ছোট কোষ ও টিস্যুর অবস্থান ও গঠন অনেক বড় (জুম) করে দেখার সুযোগ রয়েছে।

২০ শতকের শুরুতে জার্মানির বিজ্ঞানী কোরবিনিয়ান ব্রোড মানুষের মস্তিষ্কের বাইরের আবরণের (কর্টেক্স) ৫০টি ভিন্ন অংশ অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে যে মানচিত্রটি তৈরি করেন, তা স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণায় গত ১০০ বছর ব্যবহৃত হয়েছে। সেই তুলনায় নতুন ত্রিমাত্রিক মানচিত্রটি অনেক বেশি বিশদ এবং নিখুঁত। কারণ এতে মস্তিষ্কের প্রায় ২০০ পৃথক অংশের ছবি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে। ইভানস বলেন, ভবিষ্যতে তাঁরা এই মানচিত্রের আরও উন্নত এমন একটি সংস্করণ তৈরি করার ব্যাপারে আশাবাদী, যাতে মানবমস্তিষ্কের কোনো অংশের ছবিই বাদ পড়বে না।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print