বুধবার , ১৮ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » স্বাস্থ্য » ফ্যাশনের স্বাস্থ্যঝুঁকি!

ফ্যাশনের স্বাস্থ্যঝুঁকি!

আধুনিক ফ্যাশনের পোশাক-আশাকের প্রতি আগ্রহ থাকে অনেকেরই। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে এমন কোনো ফ্যাশন গ্রহণ করা যাবে না, যা আপনার জন্য আরামদায়ক নয়। শরীরের এক পাশে ভারী ব্যাগ বা অন্য কিছু থাকলে ঘাড় ও মেরুদণ্ডে ব্যথা হতে পারে।
ছয় ইঞ্চি উঁচু গোড়ালি বা হিলের জুতা, ভারী ব্যাগ অথবা আঁটসাঁট জিনস যুগের ফ্যাশন হতেই পারে, কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, এগুলো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রের হাফিংটন পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যাশনে সময়মতো পরিবর্তন না করলে কখনো কখনো চড়া মাশুল পর্যন্ত দিতে হয়।
ভারী ও মোটা মানিব্যাগ, আঁটসাঁট জিনস এবং হাই হিলের জুতা ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারেবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারী হাতব্যাগ বা কম্পিউটার ব্যাগে অনেক জিনিস ধরে ঠিকই। কিন্তু এগুলো বহনে আপনার কাঁধ, ঘাড় ও মেরুদণ্ডে ব্যথার মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বড় মানেই ভালো নয়। শরীরের এক পাশে ভারী ব্যাগ দীর্ঘ সময় ধরে বহন করা ঠিক নয়। এসব ক্ষেত্রে কী করণীয়? এমন ব্যাগ বেছে নিন, যা শরীরে আড়াআড়ি বহন করা যায়। এতে কাঁধের এক পাশে বাড়তি চাপ পড়বে না। আর এক পাশে ব্যাগ যদি নিতেই হয়, কিছুক্ষণ পর পর কাঁধ পাল্টে নিতে হবে।
শিশুদের পিঠে ঝোলানোর উপযোগী ব্যাগগুলো দেখতে সুন্দর। অনেক বইপত্র, পানির বোতল, টিফিনের বাক্স ইত্যাদি ধরে তাতে। কিন্তু শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য এসব ব্যাগ ক্ষতিকর। এমনিতেই অধিকাংশ শিশুকে যে ভার বহন করতে হয়, তা অতিরিক্ত। তাদের ব্যাগটার ওজন শরীরের মোট ওজনের ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বেশি কখনোই হওয়া উচিত নয়। কোনো শিশু যদি ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডে ব্যথার অভিযোগ করে, তাহলে তার ব্যাগের ভার যাচাই করে দেখতে হবে।
পুরুষদের প্রায় সবাই পেছনের পকেটে মানিব্যাগ বা ওয়ালেট বহন করেন। ডেস্কে কাজ করার সময়ও সেটি পকেটেই থাকে। কিন্তু এটা পশ্চাদ্দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ভারী ও মোটা ওয়ালেটের ওপর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরিণামে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দিতে পারে। এ ব্যথা নিতম্ব ছাড়িয়ে মেরুদণ্ড ও কাঁধ পর্যন্ত সঞ্চারিত হতে পারে। কাজেই টানা অনেক সময় বসে থাকার আগে ওয়ালেটটি বের করে রাখা ভালো।
উঁচু গোড়ালি বা হাই হিলের জুতার প্রতি কোনো কোনো নারীর আসক্তি থাকে। ছয় ইঞ্চি হিলের জুতা পরে হাঁটায় ফ্যাশন তারকারা যতই অভ্যস্ত হোন না কেন, তা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। শুধু পা নয়, সারা শরীরেই এ ধরনের জুতা ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রকৃতিগতভাবে পায়ের গঠন এ ধরনের জুতা পরার উপযোগী নয়। কাজেই এসব হিল পরে হাঁটার সময় শরীরটা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে থাকে। সমান তলার (ফ্লাট) জুতা বা দৌড়ানোর জুতা পায়ে দেওয়াটাই স্বাস্থ্যকর।
আর আঁটসাঁট জিনস পরলে শুধু যে অস্বাচ্ছন্দ্য হয়, তা নয়। স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূত্র: আইএএনএস।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print