সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » সুকুমার রায় শিশু সাহিত্যের অমর স্রষ্টা

সুকুমার রায় শিশু সাহিত্যের অমর স্রষ্টা

রাম গরুরের ছানা/ হাসতে নাকি মানা/ হাসির কথা বললে বলে/ হাসব না হাসবো না। এমন অনেক মজার ছড়া বা মজার সব পশু-পাখিকে যিনি শিশুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন, এঁকে গেছেন শিশুদের জন্য চমৎকার সব ছবি। তিনি বাংলা সাহিত্যের অতীব মেধাধর সাহিত্যিক সুকুমার রায়। সুকুমার রায় মানেই মজার কোন সৃষ্টি। ‘গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা।’ এমন আজগুবি অথচ সার্থক রচনা ছিলো সুকুমার রায়ের। সুকুমার রায়ের বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায়, সুকুমার রায় থেকে সত্যজিৎ রায় ও তার ছেলে সন্দ্বীপ রায় অবধি এই পরিবার একাধারে সাহিত্য, চিত্রকলা, চলচ্চিত্র সবখানে এমন সাক্ষর রেখে গেছেন যে, শিল্পকলা যতদিন থাকবে এই রায় পরিবারকে ভুলবেনা কেউ।

‘আবোলতাবোল’ গ্রন্থের ভূমিকায় নিজেই লিখেছিলেন, ‘যাহা আজগুবি, যাহা উদ্ভট, যাহা অসম্ভব, তাহাদের লইয়াই এই পুস্তকের কারবার। ইহা খেয়াল রসের বই, সুতরাং সে রস যাঁহারা উপভোগ করিতে পারেন না, এ পুস্তক তাঁহাদের জন্য নহে।’ মানুষের বয়সের ভিন্নতায় চিন্তার ধরণও ভিন্ন। বড় এবং ছোটদের চিন্তা এক হওয়া কখনও সম্ভব নয়। শিশু ও কিশোর মনের উপযোগি সাহিত্য রচনা সহজ নয়। শিশুদের মনোবিকাশের জন্যরচিত হয় মূলত তা-ই শিশু সাহিত্য। তাদের উপযোগী করে সাহিত্য রচনা করে সহজেই ছোটদের মন আকর্ষণ করানোর কেতান সহজ কাজ নয়। সাহিত্যের এটা একটি কঠিন কাজ। সুকুমার রায় কঠিনেরে ভালোবেসেছিলেন। তাই শিশু সাহিত্যকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন। সফলতা এমনই জুটেছে যে শিশু সাহিত্য মানেই সুকুমার রায়।তার সব অনবদ্য সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

মাত্র ৩৬ বছর বয়সে অকাল প্রয়াত সুকুমার রায়ের (১৮৮৭-১৯২৩) মৃত্যুর ৯ দিন পর তার মৌলিক সাহিত্যকর্ম উদ্ভট কবিতার বই ‘আবোলতাবোল’ প্রকাশ হবার পর শিশুসাহিত্যে সাড়া পড়ে যায়। পড়াশোনার শুরুতে শিশু সুকুমার রায় ভর্তি হন কলকাতা সিটি স্কুলে। কলকাতা সিটি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে সুকুমার রায় ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র অবস্থাতেই সুকুমার রায়ের শিশুসাহিত্যের প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এ সময় তিনি ‘ননসেন্স কাব’ প্রতিষ্ঠা করেন। যার মুখপাত্র ছিল ‘সাড়ে-বত্রিশ বাজা’। এই কলেজ থেকেই তিনি রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে বি.এস.সি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯১১ সালের গুরুপ্রসন্ন বৃত্তি লাভের মাধ্যমে ফটোগ্রাফি ও প্রিন্টিং টেকনোলজিতে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ইংল্যান্ড গমন করেন। ইংল্যান্ড থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইউ.রায় এন্ড সন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। ১৯১৫ সালে বাবা উপেন্দকিশোর রায়ের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নিযুক্ত হন। এ সময়ই তিনি ‘মানডে’ কাব প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৫-১৯২৩ সাল পর্যন্ত তিনি সন্দেশ পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

বাংলা শিশু সাহিত্যের প্রতিভাবান এই শিল্পী অনুপম ভাষাসমৃদ্ধ গল্প, নাটক, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে কোমলমতি শিশুদের মন জয় করে নেন। ছড়াকার হিসেবে বাংলা সাহিত্য তার স্থানটি আজও শীর্ষে। মৃত্যুর পর একে একে প্রকাশিত ‘আবোলতাবোল’ (১৯২৩), ‘হ-য-ব-র-ল’ (১৯২৪), ‘পাগলা দাশু’ (১৯৪০), ‘বহুরূপী (১৯৪৪), ‘খাই খাই’ (১৯৫০) বাংলা শিশু সাহিত্যের অমর সৃষ্টি হিসেবে গন্য হবে ।১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামে সুকুমার রায়ের জন্ম। আজ এই শিশুসাহিত্যিকের জন্মদিন। তার জন্মদিনে তার জীবন ও কর্মের প্রতি জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print