সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » সুন্দরবন নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির উদ্বেগ

সুন্দরবন নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির উদ্বেগ

শামীম খান:

সুুন্দরবনে তেল বিপর্যয়ের ঘটনায় বিভিন্ন প্রাণির বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। বুধবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কা প্রকাশ হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রয়েলবেঙ্গল টাইগার-ডলফিনের মতো বেশ কয়েকটি বিরল প্রজাতির প্রাণির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।  এছাড়া শ্যালা নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেলের ভয়ঙ্কার পভাব পড়েছে সুন্দরবনের প্রাণী ও বনাঞ্চলের ওপর। হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার জীববৈচিত্র্য। আর সবচেয়ে বেশি হুমকিতে আছে ইরাবতী ডলফিন, রয়েলবেঙ্গল টাইগার, বড় বক, চিত্রাহরিণ, নোনা পানির প্রাণি, হরিণ আর কাঁকড়ার বিশেষ এক প্রজাতি। আর দুর্ঘটনার পরও তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি উদ্ধারে কালক্ষেপণেরও সমালোচনা করেছে ন্যাশনাশ জিওগ্রাফি।

sundarbans-oil-1216-01_87000_990x742

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সুন্দরবনের এই বিপর্যয় মানুষের জীবনকেও প্রভাবিত করবে। ম্যনগ্রোভ থেকে মানুষ কাঠ ও এক ধরনের কষ সংগ্রহ করে, যা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের উপর পাখি আশ্রয় নেয়। পাতা ও গাছের গোড়া চিংড়িসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর খাবার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আর ভূমিতে অবস্থিত গাছে পোকামাকড় আশ্রয় নিয়ে থাকে। অনেক অঞ্চল নিয়ে সুন্দরবন গঠিত। এ দুর্ঘটনার ফলে এখানকার জীবন শৃঙ্খলা জটিল হয়ে উঠবে।

বিশেষত: এখানে পৃথিবীর বহুসংখ্যক বাঘ বসবাস করে। সুন্দরবনের ভারতের অংশে প্রায় এক’শর বেশি বাঘ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অংশেও অসংখ্য বাঘ রয়েছে। এশিয়া থেকে যেখানে প্রায় তিন হাজারের মতো বাঘ হারিয়ে গেছে। সেখানে এই এক’শ বাঘ জীববৈচিত্র্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের বাঘ খুব দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। খাবারের জন্য তারা ভূমিতে থাকা প্রাণী শিকারের পাশাপাশি জলজপ্রাণীও খেয়ে থাকে। এমনকি কাঁকড়াও। তাই জলজপ্রাণী মারা গেলে এখানকার বাঘ খাদ্য সংকটে ভুগবে।

87084_990x742-cb1418777723

সুন্দরবনে অবস্থানরত বড় বিড়াল ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য নিবেদিত ‘প্যানথেরিয়া’ নামক প্রতিষ্ঠানের সিইও অ্যালান রবিনোজিত বলেন, এভাবে নৌযান চলাচল করলে, নোনা পানিতে বসবাস করা প্রাণির জন্য বেঁচে থাকা সহজ হবে না।

এদিকে শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনায় পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করায় ওই প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছ ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া তেল পরিষ্কার করতে খুবই কম প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। আর ওই কাজে স্থানীয় জনগণ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের স্বত্ত্বাধিকারী কোম্পানি পদ্মা ওয়েল নদী থেকে তেল পরিষ্কার করতে (বাই ব্যাক) নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে। তারা প্রতি লিটার তেল ৩০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছে। স্থানীয় জেলেরাও জাল দিয়েও তেল সংগ্রহ করছে। তবে পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, হয়তো বা নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো বিশেষজ্ঞ পৃথিবীর কোথাও নেই।

87004_990x742-cb1418738524
বাংলাদেশের পার্শবর্তী দেশ ভারত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের ‘সুন্দরবন জাতীয় পার্কে’র পরিচালক প্রদীপ ভিয়াস বলেন, সুন্দরবনের ভারতের অংশে তেল ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে বণ্যপ্রানী সংরক্ষণ বিভাগ বাংলাদেশ সীমান্তে লোক নিয়োগ করেছে।
সত্যিকার অর্থে এই দুর্ঘটনাটি শুকনা মৌসুমে ঘটেছে। যদি বর্ষার মৌসুমে ঘটতো তাহলে আরো বিস্তৃত এলাকায় এই তেল ছড়িয়ে পড়ত।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফি থেকে অনুদিত


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print