সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » খেলাধুলা » ৪৩ তম বিজয় দিবসের ভাবনা

৪৩ তম বিজয় দিবসের ভাবনা

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ গৌরবের দিন। একাত্তরের এই দিনেই বাংলাদেশী নিজস্ব পরিচয়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পায় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি দেশ। স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে যুদ্ধের শুরু হয়েছিল, সেই যুদ্ধের সমাপ্তিতে আজকের এই দিনে পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে বাংলাদেশ নতুন পরিচয়ে পরিচিত হয় বিশ্বের দরবারে। এই বিজয় অর্জনের পেছনে রয়েছে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ। এই অর্জনের জন্য সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে অসংখ্য মা-বোনকে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের আত্মত্যাগ ও সম্ভ্রম হারানো অসংখ্য মা-বোনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
স্বাধীনতার প্রায় সাড়ে চার দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ এক নতুন যুগপর্বের সামনে দাঁড়িয়ে। আর এই নতুন যুগের সূচনা করছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়কালে দেশটির অস্তিত্বের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, মুক্তিসংগ্রামের পথে পথে কাঁটা বিছিয়েছিল- তাদের বিচারের দাবি স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকে এ পর্যন্ত বহুবার বহুভাবে উচ্চারিত ও পুনরুচ্চারিত হয়েছে; কিন্তু বিচারের বাণী বরাবরই নিভৃতে কেঁদেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি, উল্টো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা বিএনপি-জাতীয় পার্টির সহযোগী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে; যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে উড়েছে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২০০৮-এর নির্বাচনী প্রচারে। আশার কথা, ক্ষমতাসীন হয়ে মহাজোট সরকার সর্বাগ্রে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে চলছে বিচার প্রক্রিয়া। কিন্তু তা আজো শেষ হয়নি। তাই আজ সারাদেশ অধীর আগ্রহে সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চূড়ান্ত রায় জানতে ও বাস্তবায়ন দেখতে সবাই  আগ্রহী। পাশাপাশি ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ’ নিয়ে যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা নামক শব্দটিকে  কলঙ্কিত করেছে  তাদের দ্রুত  শাস্তি প্রদানে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

অন্যদিকে আমাদের জাতীয় জীবনে আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা জনগণের ওপর আস্থা রাখতে পারি না। জনগণের চাওয়া-পাওয়া কী তা আমরা জানতে চাই না। জনচাহিদার মূল্য দিতে চাই না। ফলে প্রতিটি নির্বাচনে জনগণের হাতে অবাধে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দিতে চাই না। তা করতে গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো সংবিধান কাটাছেঁড়া করি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এই কাটাছেঁড়া চলে অবাধে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে পার্লামেন্টারি ক্যুর মাধ্যমে দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে ঠেলে দিই। অবস্থা বেগতিক দেখলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধান থেকে তাড়িয়ে দিই। সংবিধান থেকে গণভোটের ব্যবস্থাকেও বাতিল করি। এই গণভোটের ব্যবস্থা থাকলে আজকের বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট আমরা সহজেই শক্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে পারতাম। আজ সরকারি দল চাইছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। বিরোধী দল বলছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দল পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে অনড়। সেই সূত্রে আজকের এই রাজনৈতিক সঙ্কট। আমরা এই সঙ্কট থেকে বের হবার জন্য সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণই আজকের বাংলাদেশের আকাক্সিক্ষত বাস্তবতা, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ। প্রবাদ আছে, সার্বক্ষণিক সচেতনতা ছাড়া স্বাধীনতা অর্থবহ হয় না। যখন সমাজের চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, নিজ নিজ অবসানে তাদের চরিত্রানুগ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়, যখন সত্যকে সত্য বলতে ভয় পায়, এমনকি অনিচ্ছাসত্ত্বেও সব মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেয়, তখনি সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল ও জরাগ্রস্ত হয়ে ওঠে-স্বাধীনতার ক্ষয় হয়, গণতন্ত্র হয়ে যায় কথার কথা আমরা চাই সৎ উচ্চারণে সবাই দেশের উন্নয়নে একতাবদ্ধ হোক।
সবশেষে বলতে চাই, জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমাদের জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে জনগণের ইস্পাত-কঠিন ঐক্য গড়ে। জনগণের মধ্যে বিভাজন জিইয়ে রেখে, এই বিভাজন আরো বাড়তে দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় না। এ উপলব্ধি আমাদের মধ্যে যত বেশি করে আসবে ততই মঙ্গল। মঙ্গলের সড়ক ধরে হোক আমাদের সবার পথচলা। স্বাধীনতার ৪৩তম বিজয় দিবসে এই হোক আমাদের সকলের প্রতিশ্রুতি।
লেখক: উমর ফারুক সেলিম।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print