সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » সুন্দরবনের নদীতে আর কোন নৌযান নয়: প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের নদীতে আর কোন নৌযান নয়: প্রধানমন্ত্রী

SDDA-1418644024সুন্দরবনের শ্যালা নদীর তেল অপসারণ ভালোভাবে মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ভিডিও কনফারেন্সে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদকে তিনি এ নির্দেশ দেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে তেল অপসারণের যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুবই কার্যকর পদ্ধতি।’ এটি সফল হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবন এলাকায় যে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, তা স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সরানো হচ্ছে। মানুষ উৎসাহ নিয়ে তেল সংগ্রহ করছে।’ তেল সরানোতে কোনো ক্ষতি যেন না হয়, সেটিও খেয়াল রাখতে বলেছেন তিনি।

ওই এলাকায় যেসব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করার  নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শ্যালা নদীতে নৌচলাচল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মংলা বন্দরে আসার জন্য ঘাসিয়া নামের যে খাল ছিল, সেই  খাল দিয়েই সব সময় নৌ চলাচল করত। সেটাই ছিল নৌপথ। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এ ঘাসিয়া খালটি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, ২০০১ সালে বিএনপি আসার পর মংলা বন্দর বন্ধ করে দেয়। সে কারণে মংলা বন্দর দিয়ে কোনো জাহাজ আসত না। ফলে ঘাসিয়া খালের কোনো গুরুত্বও ছিল না। তাই খালটি দীর্ঘদিন ড্রেজিং হয়নি। ফলে আস্তে আস্তে এটি বন্ধ হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘যেসব ছোট খাল দিয়ে ঘাসিয়া খালে পানি আসত, প্রায় সব জায়গায় শাখা খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, ওখানে চিংড়ির ঘের করা হয়েছে। একটা উদ্যোগ নিয়ে জরিপ করে দেখতে হবে, কোন কোন এলাকায় চিংড়ির ঘের করার ফলে খালে পানি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘেরগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। এগুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বা খালের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে।’

ঘাসিয়া খালের ড্রেজিং করতে নৌ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে খালটি ড্রেজিং করতে বলেছি। কারণ, এটি ড্রেজিং করে দিলে (শ্যালা নদী দিয়ে) যে জাহাজ চলাচল করছে, তা থেকে প্রায় সাত-আট মাইল পথ কমে যাবে। আমি দীর্ঘদিন থেকে কথাটা বলে আসছি। এটি এত বেশি বন্ধ হয়েছে, তাই এটি এখন খনন করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, শ্যালা নদী থেকে ৪০ হাজার ২০০ লিটার ফার্নেস অয়েল সংগৃহীত হয়েছে। রোববার প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের মূল্য ১০ টাকা বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে নৌ মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে মূল্য আরো বাড়ানো হবে ঘোষণা দিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

৯ ডিসেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের শ্যালা নদীর চাঁদপাই রেঞ্জে মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যায়। ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল।

– See more at: http://www.risingbd.com/detailsnews.php?nssl=82428#sthash.sOTvdx3S.dpuf


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print