শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » ছাত্রদলের লড়াকু সৈনিক এখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক!

ছাত্রদলের লড়াকু সৈনিক এখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক!

Kurigram-pic-final0001-e1418567339352গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদলের কুড়িগ্রাম মজিদা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম সাকিব এখন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

কয়েকদিন আগেও সরকার পতন আন্দোলনে যে লড়াকু ছাত্র নেতা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই নেতাই এখন সরকারের অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় আলোচনার ঝড় বইছে কুড়িগ্রাম জুড়ে।

এ ঘটনায় সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেমন বিস্মিত হয়েছেন তেমনি হাসি ঠাট্টা আর বিদ্রুপে মেতে উঠেছেন জেলা ছাত্রদলের নেতারা।

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের ওপর আস্থা হারিয়েই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো এক নেতার পরিচিত ওই সাকিবকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রনেতা সফিকুল ইসলাম সাকিব কুড়িগ্রাম মজিদা কলেজে ভর্তির পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে মজিদা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। এর আগে ২০১২ সালে তিনি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে সরকার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলনেও সক্রিয় নেতৃত্ব দেন।

ছাত্রনেতা সাকিব বর্তমানে মজিদা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্র। ছাত্রলীগের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি নাজমুল হক কলেজ শাখার সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা হওয়ার পর করেন নতুন পরিকল্পনা। তার পূর্ব পরিচিত ও আস্থাভাজন ছাত্রদল নেতা সাকিবের নাম প্রস্তাব করে বসেন। আর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম কোনো রকম বাছবিচার না করেই ঢাকায় বসে ওয়াহেদুর নবী সাগরকে সভাপতি ও সফিকুল ইসলাম সাকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে দায়িত্ব শেষ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মজিদা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদের জন্য সুপারিশকারী ও কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদ হোসেন লিটু  বলেন, ‘ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী সাকিব। সে আমাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল। অত্যন্ত সক্রিয় ও একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ায় গতবছর তাকে মজিদা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।’

ছাত্রদল নেতা লিটু আরো বলেন, ‘ছাত্রদলের এমন একজন সক্রিয় নেতাকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করায় একইসঙ্গে আমরা হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি। এতে ছাত্রলীগের অসহায়ত্বই প্রকাশ পেয়েছে। তারা এখন জোর করে ছাত্রদলের কর্মীদের পদ-পদবি দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।’ কর্মীহীন ছাত্রলীগ এভাবে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না বলেও মনে করেন তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাংলামেইলকে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য পরিকল্পিত ভাবে ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগে আনা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী নিজ স্বার্থ উদ্ধারে এ কাজটি করেছেন।

আবুল কালাম এসময় কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ভাইরাস নেতার হাত থেকে মুক্তি দিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখান করে পাল্টা কমিটি গঠন করেছে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত নেতারা। ৪০১ জন ছাত্রলীগ কাউন্সিলরের মতামতের ভিত্তিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি মমিনুর রহমান মমিন। গত ৩০ নভেম্বর কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসময় কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিমুজ্জামান রাকিবসহ একাধিক নেতা উপস্থিত থেকে নতুন কমিটিকে সমর্থন জানান।

মমিনুর রহমান মমিনকে সভাপতি ও রিপন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২১ সদস্যে বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গত ৮ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিলে জেলার মতামত উপেক্ষা করে পকেট কমিটি ঘোষণার প্রস্তাব করলে কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের ওপর ক্ষিপ্ত হয় জেলা ছাত্রলীগ। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী, যুবলীগ নেতা আতাউর রহমান বিপ্লব কাউন্সিলরদের ভোটে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। কিন্তু জেলা নেতাদের প্রস্তার উপেক্ষা করে কমিটি ঘোষণা না করেই ঢাকায় ফিরে আসেন সোহাগ-নাজমুল।

এর পরদিন তারা ঢাকায় বসে ওয়াহেদুর নবী সাগরকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সফিকুল ইসলাম সাকিবকে সাধারণ সম্পাদক ও রাকিবুজ্জামান রাকিবকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন।

এরপর থেকেই কুড়িগ্রামের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টানা ১০ দিনের লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতারা। বঞ্চিতদের হামলায় নতুন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যদের আহত হয়ে হাসপাতালেও থাকতে হয়েছে কয়েকদিন।

এরপরও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের টনক না নড়ায় গত ৩০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পরামর্শ ও সহযোগিতা এবং জেলা ছাত্রলীগ কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে ১২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন বঞ্চিত নেতারা।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print