শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » প্রতিবেশ বিপর্যয়ে সুন্দরবন, মরতে শুরু করেছে ডলফিন

প্রতিবেশ বিপর্যয়ে সুন্দরবন, মরতে শুরু করেছে ডলফিন

zakir-1সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহে গত দুদিন ধরে কাজ করছে একটি জাহাজ। তা স্বত্ত্বেও তেলের ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে তেল ছড়িয়ে পড়েছে সুন্দরবনের প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল তাও এরই মধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। গতকাল অভয়াশ্রম বলে পরিচিত এ অঞ্চলে পানিতে ভেসে ওঠেছে মৃত একটি ডলফিন।

ফটো সাংবাদিক সৈয়দ জাকির হোসেন গত ২৪ ঘণ্টায় সুন্দরবনের অনেক এলাকায় ঘুরেছেন। তিনিই প্রথম গতকাল শ্যালা নদীর হারিণটানা-তাম্বুলবুনিয়া চ্যানেলে একটি মৃত ইরাবতি ডলফিনের মৃতদেহের খোঁজ পান। তেলবাহী ট্যাংকার যেখানে ডুবেছিল সেখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মৃত ইরাবতিকে পাওয়া যায়।

শ্যালা নদীতে দুই প্রজাতির ডলফিনের অভয়াশ্রম। সাড়ে ৩ লাখ লিটার তেলসহ ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় বিরল এ সামুদ্রিক প্রজাতির জীবন সংশয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

শুক্রবারেই বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে এই প্রথম কোনও ডলফিনে মারা যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যদিও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান গতকাল বলেছেন, ‘আমি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, এতে তেমন ক্ষতি হবে না।’

সুন্দরবনের চাঁদপাই পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তেল খুব বেশি ছড়িয়ে না পড়ায় ডলফিন ও অন্যান্য প্রাণীর এতে  ক্ষতি হবে না।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘সাধারণত ডলফিন পানির উপরিভাগে আসে না। একটি মৃত ডলফিন পানির ওপর ভেসে ওঠার অর্থ হলো অনেক ডলফিন সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডলফিনের মত বড় প্রাণীই যদি বেঁচে থাকতে না পারে তাহলে তাহলে ছোট প্রাণী এবং মাছ ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে আছে।’

তবে সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবিরের দাবি, কিছু ছোট মাছ ও কাঁকড়া ছাড়া অন্য কিছুর মরার খবর তারা পাননি। মরা ডলফিনের সঙ্গে তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

সুন্দরবনের ৩৩ কিলোমিটার জুড়ে ডলফিনের তিনটি অভয়াশ্রম রেয়েছে। এগুলো হলো চাঁদপাই, ডাঙ্গিমারি এবং দুধকুমারি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো চাঁদপাই। শ্যালা নদীর ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চাঁদপাই বিস্তৃত।

মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে শ্যালা নদীর বাদামতলা নামক স্থানে অবস্থানরত ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে ওই তেলবাহী ট্যাংকারটিকে এমভি টোটাল নামে আরেকটি কার্গো পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ট্যাংকারটি ডুবে যায়। এতে ওই ট্যাংকারে থাকা তিন লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print