শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » কৃষিতে অবদানে ত্রিশ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার

কৃষিতে অবদানে ত্রিশ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার

অনুষ্ঠানে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কৃষকেরা রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া সারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এসব রাসায়নিক সার ব্যবহারে জমির গুণাগুণ নষ্ট হয়। তাই জমির গুণাগুণ ধরে রাখতে জৈব সার ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ জন্য কৃষকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে জমির মাটি পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী জৈব ও গুটি ইউরিয়া সারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগে বরিশালকে শস্যভান্ডার বলা হতো। কিন্তু এখন দেখা যায়, উত্তরবঙ্গে বেশি ফসল উৎপাদন হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাষিরা সেচের ওপর বেশি নির্ভর করে বোরো ফসল উৎপাদন করে থাকেন।’ এ ক্ষেত্রে বোরো মৌসুমের ওপর বেশি নির্ভরশীল না হয়ে আউশ-আমন মৌসুমে চাষাবাদ বাড়াতে পরামর্শ দেন তিনি। অল্প সেচে অধিক উৎপাদন পেতে ভুট্টা, গম ও তেলবীজ উৎপাদনের ওপরই গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। জাতির পিতা সব সময় এ দেশের কৃষকদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন। তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্যই এ স্বাধীনতা সংগ্রাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের উৎসাহিত করতে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু পুরস্কার তহবিল গঠন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তী সময় ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো বঙ্গবন্ধু পুরস্কার তহবিলের নাম কয়েক দফা পরিবর্তন করে। এ পুরস্কার বিতরণের বিষয়টিও ঝিমিয়ে পড়ে।

 

কৃষিতে নারীদের অবদানের জন্য বান্দরবানের মাসিং নু মার্মা, কৃষি গবেষণায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য চাষের জন্য কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. সামছুউদ্দিন (কালু), কৃষি সম্প্রসারণে অবদান রাখায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছাইদুন্নেছা এবং কৃষি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারকে স্বর্ণ পদক দেওয়া হয়েছে।

স্বর্ণ পদকপ্রাপ্তদের ২৫ গ্রাম ওজনের একটি করে সোনার পদক, ২৫ হাজার টাকা ও সনদ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণে অবদান রাখায় রংপুর ক্যান্টনমেন্টের জিওসি মেজর জেনারেল মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী ও দিনাজপুরের ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারে বিশেষ সাফল্যের জন্য ঝিনাইদহের মর্জিনা বেগম, কৃষক পর্যায়ে উচ্চ মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য খুলনার মো. আবু হানিফ মোড়ল, সামাজিক বনায়নের জন্য চট্টগ্রামের মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি চাষের জন্য গাইবান্ধার আব্দুল গফুর এবং বাণিজ্যিকভিত্তিক খামার স্থাপনের জন্য চিটাগাং মেরিডিয়ান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও নাটোরের মো. সেলিম রেজা রুপার পদক পেয়েছেন।

এদের সবাই ২৫ গ্রাম ওজনের একটি রুপার পদক, ১৫ হাজার টাকা ও একটি সনদ নেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে।

রংপুরের বাঘের বাজার লাইভলিহুড ফিল্ড স্কুল ও ওহিদ শেখ, সাতক্ষীরার ফরিদা পারভীন ও অল্পনা রানী মিস্ত্রী, কুমিল্লার ডা. মানবেন্দ্র নাথ সরকার, জাহেদুল হক ও মনজুর হোসেন,পাবনার আঁখি মনি কৃষি খামার ও হাফিজুর রহমান,নওগাঁর মো. সালাহ উদ্দিন উজ্জ্বল, যশোরের অঞ্জু সরকার, মৌলভীবাজারের হুমায়ুন কবীর,নীলফামারীর রাজেন্দ্র নাথ রায়, ফেনীর আজিজুল হক,ময়মনসিংহের ইন্তেখাবুল হামিদ, রাঙ্গামাটির জ্যোজিসার মহাস্থবির এবং বগুড়ার বেলাল হোসেন সরদার ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন।

এদের সবাইকে ২৫ গ্রাম ওজনের একটি ব্রোঞ্জের পদক, সাড়ে সাত হাজার টাকা ও সনদ দেন প্রধানমন্ত্রী।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print