শুক্রবার , ২২ জুন ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » তেল সংগ্রহে গ্রামবাসী

তেল সংগ্রহে গ্রামবাসী

রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানির ঠিকাদার তাদের কাছ থেকে ওই তেল কিনে নিচ্ছেন ৩০ টাকা লিটার দরে।

প্রথম পাঁচ ঘণ্টায় এভাবে ৩৪০০ লিটার তেল কেনা হয়েছে বলে পদ্মা অয়েলের ঠিকাদার আবদুল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম বাবুল জানিয়েছেন।

বন বিভাগের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে তেল সংগ্রহের কাজ শুরু হয়।

শেলা নদীর জয়মনি থেকে আন্ধারমানিক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন খালে এই কাজ চলছে বলে সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেন জানান।

তিনি বলেন, “সবাই স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে। অনেক পরিবারের নারী ও শিশুরাও হাড়ি পাতিল  নিয়ে এ কাজে নেমে পড়েছে।”

তেল সরানোর এই পুরো কাজ তদারক করছে বনবিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তেল যাতে আরো ছড়াতে না পারে সেজন্য জেলেদের সহায়তায় বনরক্ষীরা বুধবার থেকেই দুর্ঘটনাস্থলের কাছে শেলা নদীর খালগুলোর মুখ জাল দিয়ে আটকে দেওয়ার কাজ শুরু করেন।

খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার ভোরে দুর্ঘটনায় পড়ে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামের ট্যাংকারটি।

এমটি টোটাল নামে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাউদার্ন স্টারের একপাশের খোল ফেটে যায় এবং সেটি ডুবতে শুরু করে।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটি বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয়। তবে এরই মধ্যে সাউদার্ন স্টারে থাকা সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস অয়েলের প্রায় পুরোটাই ইতোমধ্যে সুন্দরবনের নদী ও খালের ৩৪ হাজার হেক্টর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা।

এই তেল বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতী ডলফিন এবং বনের প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

প্রথমে রাসায়নিক (অয়েল স্পিল ডিসপারসেন্ট) ছিটিয়ে তেল অপসারণের কথা থাকলেও সুন্দরবনের জীববৈচিত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তা স্থগিত রাখা হয়।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেলেই অয়েল স্পিল ডিসপারসেন্ট ছিটিয়ে তেল দূষণ নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হবে বলে জানান চট্টগ্রাম থেকে আসা টাগবোট কাণ্ডারি-১০ এর মাস্টার আবু বকর সিদ্দিক।

১০ হাজার লিটার ‘অয়েল স্পিল ডিসপারসেন্ট’ নিয়ে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাণ্ডারি-১০ ভাসমান তেলের ওপর রাসায়নিক ছিটানো শুরু করলেও বন বিভাগের আপত্তিতে তা স্থগিত করা হয়।

নৌ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, কাণ্ডারি-১০ যে অয়েল স্পিল ডিসপারস্যান্ট নিয়ে গেছে তা ছিটিয়ে দিলে ভাসমান তেলের রাসায়নিক গঠন ভেঙে যাবে এবং ভেসে থাকা তেল পানির নিচে চলে যাবে। এতে পানির অক্সিজেন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print