বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » চেক জালিয়াতি করায় জবি শিক্ষকের দণ্ড

চেক জালিয়াতি করায় জবি শিক্ষকের দণ্ড

 

10841626_10152571069796989_1497409712_nজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক– স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর নিয়মানুযায়ী কন্যা সন্তানকে ভরণ-পোষনের টাকা না দেওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুককে ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানার এই টাকা পরিশোধে  ব্যর্থ  হলে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার এ মামলার রায় দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের (আদালত-৩) বিচারক মো. গোলাম ফারুক। এতে ওমর ফারুককে ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার রয়ের কপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র যায়, ২০০৭ সালে সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনকে  বিয়ে করেন ওমর ফারুক। পরে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ২০১০ আগষ্টে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু কাবিন নামার টাকা ও শিশু সন্তানের ভরণ-পোষণের টাকা না দেওয়ায় ২০১১ সালে এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা সভা হয়। সভার তাদের শিশু সন্তানকে ( তখন এক বছর বয়স) ওই মাসের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভরণ-পোষণ বাবদ মোট ৮৪ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তখন ওই টাকার একটি ভূয়া ‘চেক’ দেন ওমর ফারুক। পরে টাকা না পেয়ে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট (সিএমএম) কোর্টে বাদি হয়ে মামলা করেন ফারজানা ইয়াসমিন।

ফারজানা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানান, সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী সন্তানের পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণ পোষণ খরচ প্রতি মাসে তিন হাজার ৫০০, ছয় থেকে দশ বছর বয়স পর্যন্ত ছয় হাজার টাকা ও ১০ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আট হাজার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন টাকাই দেয়নি ফারুক। কাবিন নামার টাকাও মামলা করে নিতে হয়েছে।

মামলায় হেরে ওমর ফারুক বিভিন্ন সময় অপরিচিত ফোন নম্বর থেকে জীবননাশ এবং বাচ্চা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। ফলে তিনি সব সময় আতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করছেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে ওমর ফারুক গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের পরই জরিমানা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য ওমর ফারুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন সাদাদলের  একজন সক্রিয় সদস্য।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print