সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » র‌্যাবের প্রতিবেদনেও তারেক-আরিফ-রানা জড়িত

র‌্যাবের প্রতিবেদনেও তারেক-আরিফ-রানা জড়িত

তারেক-আরিফ-রানা dinkhon24নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় চাকরিচ্যুত র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ এবং দুই কর্মকর্তা সাবেক কোম্পানি কমান্ডার আরিফ হোসেন ও এমএম রানা জড়িত ছিলেন বলে র‌্যাবের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানা- ফাইল ছবি
তবে তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেন অপহরণ থেকে শুরু করে মরদেহ নদীতে ডোবানো পর্যন্ত পুরো ঘটনায় জড়িত থাকলেও এমএম রানা অপহরণ পর্যন্ত আংশিক জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলেছে র‌্যাব।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত র‌্যাব সদরদফতরের তদন্ত কমিটির এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন বুধবার হাইকোর্টে জমা দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডিআইজি আফতাব উদ্দিন।
র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাত খুনের ঘটনায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত (অপহরণ থেকে শুরু করে মরদেহ নদীতে ডোবানো পর্যন্ত) র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন সিপিএসসি জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু লে. কমান্ডার (অব.) এম এম রানা অপহরণ পর্যন্ত অংশ নিয়ে আংশিক জড়িত ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়।
তবে ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব সদরদফতরের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে র‌্যাব আরও বলেছে, ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণ ও খুনের পরিকল্পনা করেন কাউন্সিলর নূর হোসেন।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল ও ১ মে শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
সাত খুনে জড়িত বলে অভিযোগ আসায় গত ৫ মে হাইকোর্ট স্ব-প্রণোদিত হয়ে র‌্যাব-১১ এর ওই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন এবং র‌্যাবকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। র‌্যাবের কোনো সাবেক বা বর্তমান সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ওই তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতার হন তারেক সাঈদ, রানা ও আরিফ। এর আগেই তিনজনকে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব থেকে সরিয়ে এনে সামরিক বাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়।
র‌্যাব জানায়, কমিটি এই দীর্ঘ তদন্ত কাজে শতাধিক র‌্যাব কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষ, প্রত্যক্ষদর্শী, ঘটনার শিকার সাত জনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হয়।
এছাড়াও সাত জনকে অপহরণের পর খুন করার আগে সেসব স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় সেগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে তথ্য ও আলামত নিয়েই তার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print