বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

টানা ১০ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের পর এলাকাভেদে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকা ও ঢাকার মতিঝিল, শ্যামপুর, পোস্তগোলা, বাসাবো, মুগদা ও গুলশানে বিদ্যুৎ পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ আসার খবর পাওয়া গেছে।  এসব এলাকায় মধ্যে কয়েকটিতে বিদ্যুৎ আসার পরপরই আবার চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘণ্টাখানেক বাদে আবার আসতেও দেখা যায়।

অপরদিকে চট্টগ্রামের কাজীর দেউরী, আসকার দীঘির পাড়, ঘাট ফরহাদবেগ, আন্দরকিল্লা, জামাল খান এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদ্যুৎ এলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবার চলে যায়।
পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের সিনিয়র সহকারি পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর সন্ধ্যার পর থেকে ধীরে ধীরে চট্টগ্রামের বিদ্যু সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাতের মধ্যে পুরো চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
শনিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর সারাদেশ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। এরপর মেরামত কাজ চলার মধ্যেই বিকালে আবার গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে সন্ধ্যা নামার পর থেকে অন্ধকারে ডুবে যায় রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ।
পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম বলেন, ‘ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ আসতে শুরু করেছে। রাতের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এদিকে শনিবার বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ কায়কাউসকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভোগান্তিতে রোগীরা: বিদ্যুৎ না থাকায় ঢাকার প্রধান প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলোতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শিশু ও পঙ্গু হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি সব হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে লিফটগুলো বন্ধ হওয়ায় রোগীর সজন ও রোগীরা ১৬ তলা ভবনে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কিছু সময় পরে প্রতিটি ভবনে একাধিক লিফটের জায়গায় একটি করে লিফট সচল রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এতে রোগী ও সজনদের উঠতে নামতে সিরিয়ালের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। জরুরি ওয়ার্ডগুলোতে বৈদ্যুতিক পাখা না ঘোরায় ছটফট করতে দেখা যায় রোগীদের। এসময় রোগীদের কাগজ দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলের পরিচালক অব. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ ভুঁইয়া জানান, বিদ্যুৎ না থাকলেও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি জেনারেটর দিয়ে আইসিইউ, সিসিইউসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি আমরা

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print