শুক্রবার , ২২ জুন ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বর্ধমান বিস্ফোরণের মূল হোতা গ্রেপ্তার!

বর্ধমান বিস্ফোরণের মূল হোতা গ্রেপ্তার!

bordhoman_shahnur

অবশেষে গ্রেপ্তার হলো বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত শাহনুর আলম। এর আগে দুই বার সে ধরা পড়তে পড়তে ফস্কে যায় পুলিশের হাত থেকে। সবশেষে তার হদিস পেতে পাঁচ লক্ষ টাকার পুরষ্কারও ঘোষণা করে এনআইএ। সেই শাহনুর গতকাল সন্ধ্যায় ভারতের নলবাড়ি জেলা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে।

বিস্ফোরণের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এনআইএ জানতে পারে, আসাম থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এসে জেহাদের প্রশিক্ষণ নিতো অনেক তরুণ-তরুণী। সেই সূত্রেই উঠে আসে শাহনুর আলম ওরফে ‘ডাক্তার’-এর নাম। গোয়ালপাড়া থেকে দাঁতের ডাক্তারি শিখে বরপেটার চটলা গ্রামে চিকিৎসা করত শাহনুর। তবে এই পেশার আড়ালে সে, তার স্ত্রী সুজানা বেগম ও ভাই জাকারিয়া জামাত-উল-মুজাহিদিনের (জেএমবি) হয়ে কাজ করত। বিদেশ থেকে আসা হাওয়ালার টাকা শাহনুর এ রাজ্যে নিয়মিত পাঠাতো বলে গোয়েন্দারা জানতে পারেন। তার স্ত্রী শিমুরালির মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণ নিয়ে চটলার মাদ্রাসায় মেয়েদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিত বলেও জানা যায়।

বর্ধমান বিস্ফোরণে সাথে আসামের যোগসূত্র পাওয়ার পরপরই দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে চটলার বাড়ি থেকে পালায় শাহনুর। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সে বাবা মুজিবর আলমের বাড়িতে ওঠে। পরে নলবাড়ির মুকালমুয়ায় এক আত্মীয়ের বাড়ি ৮টি বাক্সে সমস্ত নথিপত্র পুঁতে রেখে পালায়। বরপেটা নলবাড়ি থেকে জেহাদি যোগের অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

৬ নভেম্বর রাতে গুয়াহাটির বাস টার্মিনাস থেকে দেড় বছরের সন্তান-সহ ২২ বছরের সুজানাকে ধরে পুলিশ। তাকে জেরা করে মুকালমুয়ায় শাহনুরের আত্মীয়ের বাড়িতে পুঁতে রাখা নথির খোঁজ মেলে। মাঝে শাহনুরকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তার সম্পর্কিত দুই ভাইকে গ্রেফতার করেও পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এর পরে এক বার মেঘালয়, আর এক বার ধুবুরির নামাসেরসো গ্রামে পুলিশ হানা দিলে পালিয়ে যায় শাহনুর। দিন কয়েক আগে পুলিশ খবর পায়, মুকালমুয়ার লারকুচি গ্রামে ৪ দিন ধরে শাহনুর গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছে যে ছবি ছিল তাতে শাহনুরের দাড়ি ছিল। কিন্তু মুকালমুয়ায় গা ঢাকা দেওয়া ব্যক্তির দাড়ি ছিল না। তাই সে শাহনুর কি না, নিশ্চিত হতে দিন দুই সময় নেয় পুলিশ। এ দিন সন্ধ্যায় আসাম পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ অপারেশন ইউনিট ওই গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে হায়দরাবাদ থেকে খাগড়াগড়-কাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে খালিদ মহম্মদ (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সে মায়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ।

জানা গেছে, মায়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় খালিদ জঙ্গি শিবির চালাত। সে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন-এর সঙ্গে যুক্ত এবং আইইডি (ইম্প্রোভাইজ্ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ও বিস্ফোরক তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। গোয়েন্দারা বলছেন, খালিদের সঙ্গে আইএসআইএস-এর যোগাযোগের প্রাথমিক প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন এবং এই বিষয়টি তাঁদের ভাবিয়ে তুলেছে।

এনআইএ জানায়, খালিদ বেশ কিছু দিন ধরে পরিচয় বদলে, জাল নথিপত্র জোগাড় করে হায়দরাবাদে ঘাঁটি গেড়ে ছিল। অন্ধ্রপ্রদেশ না হলেও সদ্যোজাত তেলঙ্গানা রাজ্যের সঙ্গে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের যোগ থাকার সন্দেহ আগেই করেছিল এনআইএ।

এনআইএ-র দাবি, ধৃত খালিদ জানিয়েছে, সে তেহরিক-ই-আজাদি-আরাকান নামে একটি জঙ্গি সংগঠনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান-এর সদস্যেরা এসে সেখানে জেহাদি প্রশিক্ষণ দিয়ে গিয়েছিল।

এনআইএ সূত্রের খবর, খালিদের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ সূত্রে হদিস পাওয়া জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের খালিদ প্রশিক্ষণ দিয়েছিল কি না এবং পশ্চিমবঙ্গের কোথায় সে কবে গিয়েছে ও কার সঙ্গে দেখা করেছে, তা এনআইএ খতিয়ে দেখছে। খালিদকে শীঘ্রই কলকাতায় আনা হতে পারে। খালিদের কাছ থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ এবং আইইডি ও বোমা তৈরির পদ্ধতি, এমনকী বিষ তৈরির প্রণালী সংক্রান্ত ভিডিও টেপ ও কাগজপত্র, আইএসআইএস-সহ বিভিন্ন জেহাদি সংগঠনের নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে গত ১৮ নভেম্বর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) গোয়েন্দারা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)কাছে ১১ জঙ্গির তালিকা দিয়েছেন। আর র‌্যাব দিয়েছে ৪১ জনের তালিকা। র‌্যাবের দেওয়া এই তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, এই ৫১ জনের মধ্যে ১০ জন পলাতক জঙ্গি নেতা। বাকিরা হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি, যাদের কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত।

তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে সুব্রত বাইন শুভ্র, শাহাদৎ হোসেন, আমিনুল ইসলাম মুকুল, খন্দকার তানভির ইসলাম জয়, জিসান, প্রকাশ কুমার, বিকাশ কুমার, শামীম আহমেদ ওরফে আগা শামীম, নবীন হোসেন, গৌতম চন্দ্র শীল, মোল্লা মাসুদের নাম রয়েছে।

এদের ছাড়াও র‌্যাবের তালিকায় আরো যাদের নাম রয়েছে- শাহীন ওরফে রুমি, নরোত্তম সাহা ওরফে আশিক ওরফে রবিন ওরফে অশিষ, শাহিন শিকদার, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, কালু, আনিসুর রহমান লিটন ওরফে ফিঙ্গে লিটন, অমল কৃষ্ণ, তৌফিকুল আলম খান ওরফে তৌফিক আলম ওরফে পিয়াল খান, মামুনুর রশিদ মামুন, সুনীল কান্তি দে, চপল, মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল, বাবু ওরফে মিরপুর বাবু, মিন্টু, আতাউর রহমান ওরফে আতা, হারিছ আহম্মেদ, হালিম, জাফর আহম্মেদ ওরফে মানিক, কালা চাঁন, মিনহাজ উদ্দিন ওরফে দুখু, এনামুল হক এনা, সিদ্দিক, তৈয়ব, মোর্শেদ খান, নুরুল আলম প্রকাশ ওরফে এতিম আলম, রাজিব দত্ত প্রকাশ রিংকু, সাজ্জাদ খান, শহিদুল ইসলাম ওরফে সব্বা, ইব্রাহিম খলিল, ছামাদ মোল্লা ওরফে ছামাদ মেম্বার।

এনআইএকে দেওয়া র‌্যাবের তালিকায় থাকা জঙ্গিদের মধ্যে রয়েছেন জেএমবির বর্তমান আমির সোহেল মাহফুজ, ত্রিশালে পুলিশ হত্যা করে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পলাতক জেএমবি সদস্য সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি, জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান, আনোয়ারুল ইসলাম, সাখাওয়াত, আবু সাঈদ শেখ হোসাইন।

এছাড়াও রয়েছেন হরকাতুল জিহাদ নেতা শফিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা তাজউদ্দিন।

এদিকে এবছর ময়মনসিংহের ত্রিশালে ছিনতাইয়ের ঘটনায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়া তিন জঙ্গিও বর্ধমান কাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ করছে বাংলাদেশ-ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীতে পুলিশ সদর দপ্তরে বাংলাদেশে সফররত ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ) এবং বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে এক বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনই আভাস দিয়েছেন ডিএমপির (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে বাংলাদেশে ৩০০ জঙ্গি অবস্থান করছে-ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এমন খবর প্রসঙ্গে মনিরুল ইসরাম বলেন, এনআইএ জঙ্গিদের বিষয়ে তদন্তে খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

যুগ্ম কমিশনার মনিরুল আরো বলেন, ত্রিশালের ঘটনায় পলাতক তিন জঙ্গি ভারতে পালিয়ে গেছে। সেখানে হয়তো তারা অন্য কোনো নামে অবস্থান করছে।

– See more at: http://www.priyo.com/2014/12/06/1219143.html#sthash.PgYAALQe.dpuf


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print