সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জ্ঞান-বিজ্ঞান » গুগল-ফেসবুকের অ্যাডমিন প্যানেল হবে বাংলাদেশেও

গুগল-ফেসবুকের অ্যাডমিন প্যানেল হবে বাংলাদেশেও

সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশে ফেসবুক ও গুগলের অ্যাডমিন চালু করার প্রস্তাব দিয়েছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। একইসঙ্গে আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ঠিকানা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারেও কঠোর অবস্থান নিতে বলেছে রাষ্ট্রীয় এই গোয়েন্দা সংস্থা। ডিজিএফআই’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাশেদুল হাসান গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘আইপি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে’ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, স্পেক্ট্রাম ডিভিশনকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন।

4_36204 তারই প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার এর জন্য গুগল ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে বিটিআরসি। সংস্থার সচিব সারওয়ার আলম জানান, এ সপ্তাহেই সাইট দুটির অ্যাডমিন প্যানেল বসাতে সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এখন তাদের উত্তরের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই স্মারক সই হলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ফেসবুক ও গুগলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাবে এবং ক্ষতিকর উপাদান বন্ধে সহজে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

ডিজিএফআই-এর চিঠিতে বাংলাদেশে ফেসবুক ও গুগল অ্যাডমিন চালু করে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি-না সে ব্যাপারে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ও সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকেও চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চিঠিতে ডিজিএফআই’র পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। তথ্য-প্রযুক্তির অনৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় এখন সংশ্লিষ্ট সবারই মাথা ব্যাথার কারণ। অসাধু কয়েকজনের কারণে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’ এখন অনেকের জন্য ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু ব্যক্তি এর অপব্যবহার করে অনেকের ব্যক্তিগত জীবনকে চরমভাবে আক্রমণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই আক্রমণের কারণে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে।

ডিজিএফআই’র পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ইউটিউবসহ অন্যান্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাইবার ক্রিমিনালরা নিজ আইপি ঠিকানা গোপন রেখে প্রক্সি ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ করে থাকে। ডিজিএফআই’র পক্ষ থেকে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয় তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে আইপি ঠিকানা নিয়ন্ত্রণ। এক্ষেত্রে সব সংস্থার বিপরীতে বরাদ্দকৃত আইপির তালিকা এবং তাদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ আনুষঙ্গিক সকল হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি), ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ)এবং ইন্টাকানেকশন এক্সচেঞ্জসহ (আইসিএক্স)অন্যান্য মাধ্যম থেকে বরাদ্দকৃত আইপি ঠিকানা এবং গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও আনুষঙ্গিক সকল তথ্য হালনাগাদ রাখার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে বলা হয় চিঠিতে। এতে আরও বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত আইপি এমনভাবে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখতে হবে যাতে করে কেউ কোনও আইপি ব্যবহার করে অনৈতিক কোনও কাজ করলে স্বল্প সময়ে তা চিহ্নিত করা যায়।

যদি কোন আইজি/আইএসপি/আইজিডব্লিউ/আইসিএক্স তাদের বরাদ্দকৃত আইপির সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তার জন্য সকল সাইবার অপরাধের দায়ভার তাদেরকেই বহন করা উচিত বলেও এতে মন্তব্য করা হয়। ‘আইপি দিয়ে সঠিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা একান্ত প্রয়োজন’ জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাইবার ক্রিমিনালরা নিজ আইপি গোপন রেখে প্রক্সি ব্যবহার করে অপরাধ করে থাকে।

এসব ক্ষেত্রে ডিজিআইএফ’র পক্ষ থেকে আইপি নিয়ন্ত্রণসহ তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতের গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিসীম। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রাকে যেমন সহজ ও গতিশীল করেছে,অন্যদিকে এর অনৈতিক ব্যবহার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিটিআরসি আইপি নিয়ন্ত্রণসহ তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার অনুপ্রাণিত করলে এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে ফেসবুক কিংবা গুগলের কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি না থাকায় ফেসবুকের কাছে তথ্য চাওয়া হলেও তা তারা দেয় না। গুগলের কাছে কোনো ইউটিউব লিঙ্ক বন্ধের আবেদন জানানো হলে তারা আমলেই নেয় না। বিটিআরসি পরিচালিত বিডি সার্টে ফেসবুক ও ইউটিউবে ক্ষতিকর প্রচারণা সম্পর্কে গত এক বছরে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। বিশেষ করে ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তির চরিত্র হনন সংক্রান্ত অভিযোগ বেশি জমা পড়ে। ফেসবুকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং গ্রুপে ক্ষতিকর প্রচারণার শিকার ব্যক্তি আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন।

গত জুলাই পর্যন্ত এ ধরনের ১৯টি অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ সম্পর্কে তথ্য চেয়ে ফেসবুকে আবেদন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ইউটিউবেও ৬টি লিঙ্ক বন্ধের আবেদন করে সাড়া মেলেনি। সাধারণ পদ্ধতিতে রিপোর্ট করেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাড়া পাওয়া যায় না। এ কারণে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফেসবুক এবং গুগলের অ্যাডমিন প্যানেল স্থাপনের জন্য আবেদনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আবেদনে টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী বিটিআরসি যে রাষ্ট্রীয় স্বাধীন সংস্থা তাও উল্লেখ করা হয়েছে।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print