বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » ৫২৩ কোটি টাকার ঋণের নথি গায়েব

৫২৩ কোটি টাকার ঋণের নথি গায়েব

Sonali-Bank-tm-2-311x186 স্থানীয় কার্যালয়ের ৫২৩ কোটি টাকার ঋণের নথি খুঁজে পাচ্ছে না সোনালী ব্যাংক। পরিদর্শন করে এসব নথি উদ্ধার করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংকও। এর ফলে হল-মার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির মতো কার্যালয়ের বাইরে কোথাও নথিপত্র তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকটি নথিপত্র ও ঋণের সুবিধাভোগীকে বের করতে না পারলে তাদের ৫২৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত সঞ্চিতি সংরক্ষণের নির্দেশ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের চিঠি চালাচালি চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকটি ঋণের বিপরীতে নথিপত্র দেখাতে পারেনি। তাদের নথি খুঁজে জমা দিতে বলা হয়েছে। নথি জমা দিতে না পারলে এর বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র আরো জানায়, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে ২০১২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে গত বছর তদন্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল। ওই সময় থেকে কিছু ঋণের নথিপত্রের হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।

বিষয়টি আমলে নিয়ে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো ব্যাপক তদন্ত করে। তদন্তে ঋণের নথি গায়েব হওয়ার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। তদন্তের সময় সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ওইসব টাকা কাদের ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে, তার কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল এ ঘটনা শনাক্ত করার পর সোনালী ব্যাংকের ফাইল তলব করলে তারা তা দেখাতে পারেননি। পরে এসব টাকার লেনদেন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা ওই টাকার লেনদেনের কোনো তথ্যও উপস্থাপন করতে পারেননি। এর ফলে পরিদর্শক দল এ টাকার বিষয়ে আপত্তি জানায়।

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধিকতর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ২০০৪ সাল থেকে শাখাটি যেসব ঋণ দিয়েছে, তার মধ্যে ৫২৩ কোটি টাকার হদিস নেই। ওই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত শেষে সোনালী ব্যাংককে ওই ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে বলে।

কিন্তু ব্যাংক এক বছরের মধ্যে এ ঋণ সম্পর্কিত সব ধরনের কাগজপত্র উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে উপস্থাপন করার অঙ্গীকার করলে তাদের প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেয়া হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে আবারো তদন্ত শুরু করে। তখন ওই ঘটনার অগ্রগতি জানতে গিয়ে পরিদর্শক দল দেখতে পায়, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এক বছরেও সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কিছুই করতে পারেনি। ঋণের টাকা কোথায় গেল, তার একটি ফাইলও উদ্ধার করতে পারেনি।

এতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। তদন্ত চলার সময়েও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গায়েব হওয়া ৫২৩ কোটি টাকা সম্পর্কিত কোনো কাগজপত্র উদ্ধার করতে পারেনি।

এ অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংকে ওই ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখার জন্য আবারো নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবারো যথারীতি প্রভিশন মওকুফ সুবিধা চায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের আর এ সুবিধা দিতে রাজি নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সোনালী ব্যাংকের এমডি যদি ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দেন, তবে তারা প্রভিশন মওকুফ সুবিধাটিতে ছাড় দিতে পারে। অন্যথায় ব্যাংকটিকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে।

কিন্তু সোনালী ব্যাংকের এমডি ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিতে নারাজ বলে জানা গেছে। কেননা ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দেয়ার পর বছর শেষে কাগজপত্র পাওয়া না গেলে দায় এসে পড়বে তার ওপর। এ কারণে তিনি ব্যক্তিগত গ্যারান্টি না দিয়ে বিষয়টি পর্ষদে উপস্থাপন করতে চাইছেন।

সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক শওকত আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঋণের কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print