শনিবার , ২১ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » টানা ৪র্থ ম্যাচে জয় টাইগারদের

টানা ৪র্থ ম্যাচে জয় টাইগারদের

চতুর্থ ম্যাচেও জয় টাইগারদেরপাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার বাংলাদেশের দেওয়া ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারীত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান করে জিম্বাবুয়ে। দেশের মাটিতে এটি টাইগারদের ৫০তম ওয়ানডে জয়।
এ জয়ের ফলে সিরিজে ৪-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ১ ডিসেম্বর মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
২৫৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালই হয়েছিল জিম্বাবুয়ের। দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজাও বুসিমুজি সিবান্দা মিলে ১০ ওভারেই দলের স্কোরবোর্ডে ৪৮ রান জমা করেন। একাদশ ওভারের প্রথম বলেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। সিবান্দাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে উইকেট পতনের সূচনা করেন এ অলরাউন্ডার।
নিজের করা পরের ওভারে মাসাকাদজাকে বোল্ড করেন সাকিব। জিম্বাবুয়ের রান তখন ১২ ওভার ২ বলে ৫১। সতেরোতম ওভারে জুবায়েরের বলে মারুমা আউট হলে জিম্বাবুয়ে হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৬০।
৪৭তম ওভারে সাকিবরে বলে ২৬ রান করে ফিরে গেছেন রেগিস চাকাবভা। এরআগে দলীয় ১৮৩ রানের মাথায় মাশরাফির বলে আবুল হাসানের তালুবন্দী হয়ে ফিরে যান চিগুম্বুরা।
টেইলর ও মিরে আউট হয়েছেন যথাক্রমে ১৭২ ও ১৬৬ রানের সময়।
জুবায়েরের করা ৩৪তম ওভারের পঞ্চম বলে মাহমুদুল্লাহ হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে মিরে ৬৯ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে গেছেন। পরের ওভারে রুবেলের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন টেইলর (৬৩)।
সাকিব আল হাসান ও জুবায়েরের আক্রমণে শুরুর দিকে ৬০ রানে ৩ উইকেট হারালেও টেইলর ও মিরের দৃঢতায় ম্যাচে ফিরে জিম্বাবুয়ে। এর আগে ইনিংসের ১১ ও ১৩ তম ওভারে সাকিবের বলে আউট হন ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (২৮) ও ভুসিমুজি সিবান্দা (১৭)। ৬০ রানের মাথায় জুবায়েরের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান টিমিসেন মারুমা (৬)।
এরপর জুটি বাধেন ব্রেন্ডন টেইলর ও সলোমন মিরে। জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ১৬৬ রানের মাথায় মিরেকে আউট করে ১০৬ রানে জুটি ভাঙ্গেন জুবায়ের।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৩২ রানের মাথায় চারটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
তবে বিপর্যয় কাটিয়ে হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম (৭৭) ও মাহমুদুল্লাহ (৮২)। তাদের বড় স্কোরের সুবাধে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৫৬ রান করে স্বাগতিকরা।
এরআগে বাংলাদেশ ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দলীয় ১৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেন এনামুল হক বিজয় (৫) । মাদজিভার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন এ ওপেনার।
একাদশতম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৩১ রানের মাথায় সলোমন মিরের বলে মাসাকাদজার হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম ইকবাল (১৬)। পরে ওভারে দলের সংগ্রহে কোনো রান যোগ না হতেই টেইলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ইমরুল কায়েস (৫)। শিকারি আবারও সেই মাদজিভা।
১৩তম ওভারে মাত্র ১ রান যোগ হতেই আবারও জিম্বাবুয়ের আঘাত। এবার মিরের বলে মারুমার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের রাস্তা ধরেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান (১)।
১০ ওভার ২ বল থেকে ১২ ওভার ২ বল মোট ১২ বলের ব্যবধানে দলীয় সংগ্রহে ১ রান যোগ করে প্রথম সারির ৩ ব্যাটসম্যন আউট হলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এরপর ১৩৪ রানের শক্ত জুটি গড়ে তোলেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। ৩৮তম ওভারে দলীয় ১৬৬ রানের মুশফিক আউট হলে জুটি ভাঙ্গে। কামুঙ্গজির বলে চিগুম্বুরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যাওয়ার আগে ৭৮ বলে ৭৭ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেছেন এ উইকেট কিপার।
মুশফিকের পর সাব্বির রহমান ও আবুল হাসান কেউই বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ১৭৫ ও ১৭৭ রানে পর পর মাঠ ছাড়েন সাব্বির ও আবুল হাসান।
এরপর মাহমুদুল্লার সাথে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ২৫ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে মাদজিবার বলে মুর এর তালুবন্দী হয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ৪৮ ওভার ২ বলে দলের রান তখন ২৪২। এরপর মাহমুদুল্লাহ আর রুবেল মিলে বাকী ১০ বলে ১৪ রান সংগ্রহ করেন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় মিরপুরে শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয় এই ম্যাচ। এরই মধ্যে দুই ম্যাচ হাতে রেখে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ায় বাকি দু’টো ম্যাচে একাদশ নিয়ে কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তৃতীয় ওয়ানডেতে পেসার শফিউল চোট পাওয়ায় তার বদলে আবুল হাসান রাজুকে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্পিনার আরাফাত সানির জায়গায় ডাকা হয়েছে তাইজুল ইসলামকে।
সিরেজের শেষ ম্যাচে সৌম্য সরকারকে একাদশে রাখা হাতে পারে বালে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print