মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শুরু আজ

সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শুরু আজ

সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শুরু আজদক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলনের ১৮তম আসরের মূল পর্ব শুরু হচ্ছে আজ। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য- ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্কভুক্ত আটটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিতব্য মূল পর্বের সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন ঘিরে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে হিমালয়কন্যা নামে খ্যাত কাঠমান্ডু নগরীকে। সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সরকারপ্রধানরা মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন। এদিন সার্ক সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ নভেম্বর থেকে সম্মেলনের প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়। আজ (বুধবার) সম্মেলনের মূল পর্ব শুরু হচ্ছে কাঠমান্ডুর ভ্রীকুটি ম-পে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সভাগৃহের নগর মিলনায়তনে। কাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানেই চলবে শীর্ষ সম্মেলনের দুই দিনের নানা আনুষ্ঠানিকতা। আজ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও সার্কের বিদায়ী চেয়ারপারসন আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম। এসময় তার সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাও বাদ্যের তালে তালে প্রদীপ প্রজ্বলন করবেন। এর আগে আটটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা মূল সম্মেলন মঞ্চে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করবেন। আসন গ্রহণের আগে তারা ফটোসেশনেও অংশ নেবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিন তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজাপাকসে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং স্বাগতিক নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা। সার্ক সদস্য দেশগুলো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯টি পর্যবেক্ষক দেশ থেকে প্রায় ৩৫০ জন অতিথি সম্মেলনে অংশ নেবেন। এছাড়া সম্মেলনের খবর সংগ্রহ করতে সার্কভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও বেশকিছু দেশের প্রায় ৪০০ গণমাধ্যম কর্মী এখন নেপালে অবস্থান করছেন।

কাঠমান্ডুতে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জা : সার্ক শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ‘হিমালয়কন্যা’ কাঠমান্ডু নগরীকে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জায় আরও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। পর্বতবেষ্টিত এই নগরীকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। পাহাড়ের ঢাল কেটে উঁচুনিচু সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে স্থাপিত হয়েছে বর্ণাঢ্য তোরণ। সার্কভুক্ত আট দেশের পতাকা ও শীর্ষ নেতাদের প্রতিকৃতিও রয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা দেখা যায় চারপাশে।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা : সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নিরাপত্তার ঘোরটেপও চোখে পড়ার মতো। কয়েক স্তরের এই নিরাপত্তায় অংশ নিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্স, পুলিশ ও জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের ২৬ হাজার নিরাপত্তা কর্মী। রাজধানীর বাইরে থেকেও নিরাপত্তা কর্মীদের জড়ো করা হয়েছে। এছাড়া সার্কভুক্ত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিজ নিজ দেশের এলিট ফোর্সগুলোর সদস্যরাও রয়েছেন। পুরো নিরাপত্তার খোঁজখবর রাখছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা। নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্থানে ২০৩টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নেপালের রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতেও দিনরাত নিরাপত্তা টহল চলছে। স্পর্শকাতর বেশ কয়েকটি স্থানে থাকছে ডগ স্কোয়াড। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় রয়েছে পুলিশ ও ট্রাফিকের বিশেষ তল্লাশি। কয়েকটি সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচলও বন্ধ রয়েছে। আকাশে হেলিকপ্টারে চলছে নিরাপত্তা টহল। নিরাপত্তার স্বার্থে কাঠমান্ডুতে ২৬-২৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পৌঁছেছেন : সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০৭১ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী বামদেব গৌতম। এসময় নেপালের চিফ অব প্রটোকল কালী প্রসাদ পোখরেল এবং নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় নেপালের সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিমানবন্দরের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কাঠমান্ডুর হোটেল ক্রাউন প্লাজা সোয়েলটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সম্মেলনের মূল পর্বের উদ্বোধনী অধিবেশনে আজ সার্কের অন্য সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত থাকবেন এবং ভাষণ দেবেন। এদিন শেখ হাসিনার নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ড. আশরাফ ঘানি ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুমের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে হোটেল ক্রাউন প্লাজা সোয়েলটিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অবকাশের জন্য হেলিকপ্টারযোগে কাঠমান্ডু থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নেপালের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নয়নাভিরাম ধুলিখেলের ‘দাওয়ারিকা রিসোর্টে’ যাবেন। এদিনই দুপুরে সেখানে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে। রিসোর্ট থেকে ফিরে শীর্ষ নেতারা সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অন্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাঠমান্ডুর প্রেসিডেন্ট ভবনে নেপালের প্রেসিডেন্ট ড. রামবরন যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা নেপালের প্রেসিডেন্টের দেয়া ভোজসভায়ও যোগ দেবেন। একই হোটেলে থাকাকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হতে পারে। আগামী শুক্রবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক : কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়েলটিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্কভুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৩৬তম বৈঠক। বৈঠকে সার্ক বিদ্যুৎ সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সার্ক আঞ্চলিক রেল সহযোগিতা চুক্তি, সার্ক পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযান চালু করার বিষয়ে চুক্তিসহ সার্ক ডেভেলপমেন্ট গোল-২০১৫ সালের প্রতিবেদন, কার্যতালিকা তৈরি এবং কাঠমান্ডু ঘোষণাসহ আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে না। এ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হতে না পারায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সহায়তার যে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ এখনও আশাবাদী।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print