সোমবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
মূলপাতা » প্রধান খবর » গ্রেনেড হামলা: তের বছরেও শেষ হয়নি মামলার বিচার

গ্রেনেড হামলা: তের বছরেও শেষ হয়নি মামলার বিচার

download (2)এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার কাজ। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার চললেও ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণেই কেটে গেছে ৬ বছর। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, তিনবার তদন্ত হওয়া এবং পাঁচ বার আসামি পক্ষের উচ্চ আদালতে আবেদন করার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে মামলার বিচার কাজ। তবে তারা আশা করছেন এ বছরের মধ্যেই পাওয়া যাবে এ মামলার রায়।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। হঠাৎই বিকট শব্দ আর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো এলাকা।

নৃশংস সেই গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তবে, নিহত হন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান’সহ ২৪ জন। আর গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক’শ নেতাকর্মী।

ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হলেও, পুলিশ আর ডিবির হাত ঘুরে ২০০৮ সালের ৯ জুন ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। ওই বছরই মামলা দুটির কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় দ্রুত বিচার আদালত ১-এ।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৫২ জনকে আসামি করে দুইটি অভিযোগপত্র দেয়া হয় আদালতে।

এ বছরের ৩০শে মে ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নিয়ে শেষ করা হয় আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী বলছেন, আসামিপক্ষ জেরা করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভাবে সময়ক্ষেপণ করেছেন। বর্তমানে মামলাটি সাফাই সাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। এরপর দুপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে এ বছরের মধ্যেই মামলার রায় পাওয়া যাবে বলে আশা তার।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র পক্ষ থেকে চেষ্টা করেছি, এখনও সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এবং আমরা আশা করছি এ বছরের মধ্যে এই মামলাটির রায় নিষ্পত্তি হবে।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই তারেক রহমানকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবি সৈয়দ জয়নাল আবেদিন মেজবাহ বলেন, ‘তারেক রহমান সহ বিএনপি এবং চার দলীয় এক্য জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকে আসামী করা হয়। ভালোভাবে তদন্ত না করে হয়রানি মূলক একটা চার্জশিট দিয়েছে।’

এ মামলার তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে কারাগারে ২৩ এবং জামিনে আছেন ৮ জন। এ ছাড়া তারেক রহমানসহ পলাতক আছেন ১৮ জন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print