সোমবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
মূলপাতা » প্রধান খবর » একুশে আগস্টের ভয়াবহ স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি আহতরা

একুশে আগস্টের ভয়াবহ স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি আহতরা

download (1)একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতরা এখনও সেইদিনের ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি। এখনও তাদের কানে বাজে গ্রেনেডের সেই বিকট শব্দ, আহত মানুষের আর্তচিৎকার। অনেকে শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেনেডের স্প্লিন্টার। একদিন ঘাতকের বিচার হবে-এমন প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ পর্যায়ে। এমন সময় বিকট শব্দে কেঁপে উঠে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। পুরো সমাবেশ স্থল জুড়ে তখন চিৎকার, শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতংক।

নজিরবিহীন এই বোমা হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন নেতা-কর্মী। আহত হন পাঁচ শতাধিক। সেই দু:সহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফিরে আহতদের।

মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এমপি নাসিমা ফেরদৌসী বলেন, ‘যখন বোমা বিস্ফোরণ ঘটে তখন চারপাশে দেখি লাশ আর লাশ। লাল রক্তে পুরো রাস্তা ভিজে গেছে। আমার পায়ে এখনও এক দেড় হাজার স্প্লিটার আছে। রাতে ঘুমালে কোনো শব্দ কানে আসলে এখনও ভয়ে বুক কেঁপে উঠে।’

সেদিনের ভয়াবহ হামলায় আহত হয়েও নিজের চিকিৎসার পরোয়া না করে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে যান এ চিকিৎসক।

আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর (উত্তর) সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, ‘শরীরের কয়েকটি স্থানে রগের মধ্যে একটা দুইটা করে স্প্লিটার আছে। এগুলো অপারেশনও করা যাবে না। সেদিন মনে হচ্ছে কেয়ামত চলে আসছে।’

সেই দিন ভয়াবহ হামলায় আহত হয়েও নিজের চিকিৎসার পরোয়া না করে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে যান বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক প্রফেসর ডাক্তার এম এ রউফ সরদার।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি ইমারজেন্সিতে ঢুকলাম তখন সবাই একসাথে বলছিল আমাকে দেখেন স্যার। তখন আমি হাসপাতালের সমস্ত ডাক্তারকে বলি চলে আসেন।’

নারকীয় এ ঘটনা থেকে রেহাই পায়নি গণমাধ্যম কর্মীরাও। স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা নিয়ে এখনও তারা জীবন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন।

এটিএন বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি সাঈদ রিয়াজ বলেন, ‘আমি ক্যাবল গুছাতে গুছাতে ভাবছিলাম টপ লাইনটা কি হতে পারে ঠিক সেই মুহূর্তে কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর আমি ডান পাশে পড়ে যাই। পড়ে যাওয়ার পর আমি পায়ের কোনো কিছু বুঝতে পারছিলাম না। পরে হঠ্যাৎ বুঝলাম স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা করছে।’

দেশের ইতিহাসের ভয়াবহ এই ঘটনার একযুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও দোষীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় এসব মানুষ।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print